ঢাকা ০৮:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

নতুন ভূমি আইনে এখন থেকে ৭ দিনেই

জেলা প্রশাসক ও পুলিশের মাধ্যমে বেদখল জমি উদ্ধার হবে!

স্পোর্টস ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ১১৮ বার পড়া হয়েছে

 

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক;

বাংলাদেশে দস্যুর নাম শুনেনি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর কিন্ত ভূমিদস্যুর নাম শুনেনি এরূপ ব্যক্তি নেই।বিশেষ করে নব্বই এর দশক থেকে গ্রামে গঞ্জে আইনের ফাঁক ফোকর ও একধরনের গু(ঘুষ) খাওয়া মানুষের সহায়তায় ভূমিদস্যুকে শিল্পে পরিনত করেছে দেশের এক শ্রেণীর বিপুল সংখ্যক মানুষ।একজন প্রাক্তন বিচারপতি বলেছিলেন ‘দেওয়ানী ( জমি সংক্রান্ত মামলা) আইনে জনগণ আদৌ কোন প্রতিকার পাইনা’। কার জমি কে দখল করে খাচ্ছে তা ধুলোয় অন্ধকার।এক সমীক্ষায় দেখা গেছে জমি – জমাকে কেন্দ্র করে ম্যাক্সিমাম ফৌজদারি মামলার উদ্ভব।অতএব ডিজিটাল যুগে তা হবার কথা না।

এবার দেশে দীর্ঘদিন ধরে জমি বেদখল ও দখলবাজির অভিযোগে ভোগান্তিতে থাকা প্রকৃত মালিকদের জন্য সুখবর এসেছে। সম্প্রতি সরকার নতুন ভূমি আইন পাস করেছে, যার আওতায় এখন মাত্র সাত দিনের মধ্যেই ডিসি (জেলা প্রশাসক) ও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে বেদখল জমি উদ্ধার করা যাবে।

সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘ আদালত প্রক্রিয়া ছাড়াই জেলা প্রশাসক দপ্তর থেকেই মালিকরা তাদের জমির দখল ফিরে পেতে পারবেন। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনটি কার্যকর করতে প্রশাসন ও আদালত একযোগে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা

আইনের নতুন ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তির জমি জবরদখল হয় এবং তার কাছে মালিকানার বৈধ দলিল থাকে, তাহলে তিনি ডিসি অফিসে একটি আবেদন করলেই কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করবেন এবং ৭ দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মালিককে জমির দখল ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

এছাড়া, তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রমাণিত হলে অবৈধ দখলদারদের সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা

এখন থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতের পরিবর্তে সরাসরি ডিসি অফিসে আবেদন করা যাবে।
অন্যদিকে, বাটোয়ারা সংক্রান্ত (সম্পত্তি ভাগ-বণ্টন) বিরোধের ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড সেন্টার-এর মাধ্যমে বিনা খরচে সমাধান পাওয়া যাবে। এতে ভাই-বোন বা ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি সংক্রান্ত সমস্যাও দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

অসাধুদের বিরুদ্ধে সতর্কতা

তবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে—ভুয়া মালিক বা জাল কাগজপত্রধারীরা যদি এই আইনের অপব্যবহার করে দখল নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন আইন কার্যকর হলে ভূমি দখল, দীর্ঘস্থায়ী মামলা, এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে জমি দখলের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

প্রকৃত মালিকেরা এখন থেকে আইনগত প্রক্রিয়া মেনে দ্রুত তাদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবেন—এটাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

নতুন ভূমি আইনে এখন থেকে ৭ দিনেই

জেলা প্রশাসক ও পুলিশের মাধ্যমে বেদখল জমি উদ্ধার হবে!

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৫

 

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক;

বাংলাদেশে দস্যুর নাম শুনেনি এমন ব্যক্তি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর কিন্ত ভূমিদস্যুর নাম শুনেনি এরূপ ব্যক্তি নেই।বিশেষ করে নব্বই এর দশক থেকে গ্রামে গঞ্জে আইনের ফাঁক ফোকর ও একধরনের গু(ঘুষ) খাওয়া মানুষের সহায়তায় ভূমিদস্যুকে শিল্পে পরিনত করেছে দেশের এক শ্রেণীর বিপুল সংখ্যক মানুষ।একজন প্রাক্তন বিচারপতি বলেছিলেন ‘দেওয়ানী ( জমি সংক্রান্ত মামলা) আইনে জনগণ আদৌ কোন প্রতিকার পাইনা’। কার জমি কে দখল করে খাচ্ছে তা ধুলোয় অন্ধকার।এক সমীক্ষায় দেখা গেছে জমি – জমাকে কেন্দ্র করে ম্যাক্সিমাম ফৌজদারি মামলার উদ্ভব।অতএব ডিজিটাল যুগে তা হবার কথা না।

এবার দেশে দীর্ঘদিন ধরে জমি বেদখল ও দখলবাজির অভিযোগে ভোগান্তিতে থাকা প্রকৃত মালিকদের জন্য সুখবর এসেছে। সম্প্রতি সরকার নতুন ভূমি আইন পাস করেছে, যার আওতায় এখন মাত্র সাত দিনের মধ্যেই ডিসি (জেলা প্রশাসক) ও পুলিশ প্রশাসনের মাধ্যমে বেদখল জমি উদ্ধার করা যাবে।

সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘ আদালত প্রক্রিয়া ছাড়াই জেলা প্রশাসক দপ্তর থেকেই মালিকরা তাদের জমির দখল ফিরে পেতে পারবেন। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় আইনটি কার্যকর করতে প্রশাসন ও আদালত একযোগে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা

আইনের নতুন ধারায় বলা হয়েছে, যদি কোনো ব্যক্তির জমি জবরদখল হয় এবং তার কাছে মালিকানার বৈধ দলিল থাকে, তাহলে তিনি ডিসি অফিসে একটি আবেদন করলেই কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি তদন্ত করবেন এবং ৭ দিনের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে মালিককে জমির দখল ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

এছাড়া, তদন্ত প্রক্রিয়া দীর্ঘ হলে তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। প্রমাণিত হলে অবৈধ দখলদারদের সর্বনিম্ন দুই বছর থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আদালতের দীর্ঘসূত্রিতা এড়াতে বিকল্প ব্যবস্থা

এখন থেকে নির্দিষ্ট শ্রেণির জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালতের পরিবর্তে সরাসরি ডিসি অফিসে আবেদন করা যাবে।
অন্যদিকে, বাটোয়ারা সংক্রান্ত (সম্পত্তি ভাগ-বণ্টন) বিরোধের ক্ষেত্রে লিগ্যাল এইড সেন্টার-এর মাধ্যমে বিনা খরচে সমাধান পাওয়া যাবে। এতে ভাই-বোন বা ওয়ারিশদের মধ্যে জমি ভাগাভাগি সংক্রান্ত সমস্যাও দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।

অসাধুদের বিরুদ্ধে সতর্কতা

তবে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে—ভুয়া মালিক বা জাল কাগজপত্রধারীরা যদি এই আইনের অপব্যবহার করে দখল নিতে চায়, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই নতুন আইন কার্যকর হলে ভূমি দখল, দীর্ঘস্থায়ী মামলা, এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে জমি দখলের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

প্রকৃত মালিকেরা এখন থেকে আইনগত প্রক্রিয়া মেনে দ্রুত তাদের সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাবেন—এটাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।