ঢাকা ০৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাড়িতে ঢুকে হোটেল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা, এলাকায় চাঞ্চল্য! ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে,

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ২ গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ইমামসহ নিহত ০২ জন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:২০:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে বড় গোষ্ঠী ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর মধ্যে এক সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তেও সংঘর্ষে জড়িয়েছিল এ দুপক্ষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বড় গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকেন তিনি।

পরে কারাগার থেকে বের হয়ে জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরপর গত ১৭ মার্চ সকালে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এরই শোধ নিতে কয়েকদিন প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ফের বড় গোষ্ঠীর লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায় বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)। পরে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, কাছাকাছি সময়ে সংঘর্ষে আক্তার মিয়া নামেও একজন নিহত হন। এছাড়াও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণকে বলেন, হাসপাতালে দুজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে সকালে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুজন মারা গেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে,

মাইকে ঘোষণা দিয়ে ২ গোষ্ঠীর সংঘর্ষে ইমামসহ নিহত ০২ জন।

আপডেট সময় : ০৫:২০:২৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের গোয়ালনগর গ্রামে বড় গোষ্ঠী ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর মধ্যে এক সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৭ মার্চ ইফতারের আগ মুহূর্তেও সংঘর্ষে জড়িয়েছিল এ দুপক্ষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক ও বাইদ্দা গোষ্ঠীর সদস্য জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই গ্রামের বড় গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকেন তিনি।

পরে কারাগার থেকে বের হয়ে জিয়াউর রহমান শিশু মিয়াকে মারধর করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। এরপর গত ১৭ মার্চ সকালে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন বড় গোষ্ঠীর বাড়িঘরে হামলার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিকেলে উভয়পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার একপর্যায়ে বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এরই শোধ নিতে কয়েকদিন প্রস্তুতি নিয়ে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে ফের বড় গোষ্ঠীর লোকজনের বাড়িঘরে হামলা চালায় বাইদ্দা গোষ্ঠীর লোকজন। একপর্যায়ে সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান (৪০)। পরে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, কাছাকাছি সময়ে সংঘর্ষে আক্তার মিয়া নামেও একজন নিহত হন। এছাড়াও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণকে বলেন, হাসপাতালে দুজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পূর্ববিরোধের জের ধরে সকালে দুপক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে দুজন মারা গেছেন। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।