ঢাকা ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

স্থলযুদ্ধ নিয়ে,

ইরানের হুঁশিয়ারি : মার্কিন সেনাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে এক গভীর সংকটের দিকে এগোচ্ছে । সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে। এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুরা জনসমক্ষে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল অভিযানের নীল নকশা আঁকছে।

একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানও এ বিষয়ে সতর্ক এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যে কোনো স্থল আক্রমণ হলে তারা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং মার্কিন সেনাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করবে। খবর সিএনএন ও আলজাজিরার।

মার্কিন কর্মকর্তারা কী বলছেন?

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো নিশ্চিত করেনি যে আমেরিকান সেনাদের ইরানে পাঠানো হবে কিনা, তবে এই সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেনি।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সিবিএস টিভি নেটওয়ার্ককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে যতদূর যেতে হয় ততদূর যেতে প্রস্তুত এবং ওয়াশিংটন নিশ্চিত করবে যে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কখনোই সফল না হয়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত সপ্তাহে বলেন, স্থল অভিযান এই মুহূর্তে পরিকল্পনার অংশ নয়, তবে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন।

গত সপ্তাহে কংগ্রেসে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কেন স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্যরা ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে একটি বি-১বি বোমারু বিমান থেকে নামানো গোলাবারুদ নিরাপদে সংরক্ষণ করছেন। ছবি : সংগৃহীত
জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানে সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করে।

এই সপ্তাহে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা, যাদের বেশিরভাগই বামপন্থী এর বিপক্ষে রয়েচে। যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক দ্রুত এসএমএস জরিপেও অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করেন।

এছাড়া, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই করা রয়টার্স-ইপসোস জরিপে দেখা যায়, ৪৩ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ অনিশ্চিত ছিলেন। মাত্র চারজনের একজন এই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলাকে সমর্থন করেছেন।

কী হতে পারে ?

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী। সংঘাতের যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এছাড়া ইরান তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এতে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরির পাশাপাশি পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। সম্ভাব্য এসব হামলায় ইরান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। যার কারণে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- বৈশ্বিক রাজনীতি আর অর্থনৈতিক এ চরম সংকটে দুই পক্ষ দুই মেরুতে অবস্থান করছে। কোনো আপসের লক্ষণ না থাকার ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রায় কোটির উপরে মানুষ ৫০টি রাজ্যেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বিক্ষোভকারীর সংখ্যা এতই দ্রুত বাড়ছে তা ট্রাম্প প্রশাসনের বুঝতে হয়ত দেরি করে ফেলেছেন।

সুত্র : সিএনএন ও আলজাজিরার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

স্থলযুদ্ধ নিয়ে,

ইরানের হুঁশিয়ারি : মার্কিন সেনাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করা হবে!

আপডেট সময় : ০৬:৩৯:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে এক গভীর সংকটের দিকে এগোচ্ছে । সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হলে একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হতে পারে। এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে।

ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সম্প্রতি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, শত্রুরা জনসমক্ষে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল অভিযানের নীল নকশা আঁকছে।

একদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য স্থলযুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইরানও এ বিষয়ে সতর্ক এবং হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যে কোনো স্থল আক্রমণ হলে তারা কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং মার্কিন সেনাদের ওপর ‘আগুনের বৃষ্টি’ বর্ষণ করবে। খবর সিএনএন ও আলজাজিরার।

মার্কিন কর্মকর্তারা কী বলছেন?

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এখনো নিশ্চিত করেনি যে আমেরিকান সেনাদের ইরানে পাঠানো হবে কিনা, তবে এই সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেনি।

প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সিবিএস টিভি নেটওয়ার্ককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে যতদূর যেতে হয় ততদূর যেতে প্রস্তুত এবং ওয়াশিংটন নিশ্চিত করবে যে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা কখনোই সফল না হয়।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত সপ্তাহে বলেন, স্থল অভিযান এই মুহূর্তে পরিকল্পনার অংশ নয়, তবে ট্রাম্প সব ধরনের বিকল্প খোলা রাখছেন।

গত সপ্তাহে কংগ্রেসে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বক্তব্য থেকে বোঝা যায় কেন স্থলবাহিনীর প্রয়োজন হতে পারে।
মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্যরা ইংল্যান্ডের ফেয়ারফোর্ডে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে একটি বি-১বি বোমারু বিমান থেকে নামানো গোলাবারুদ নিরাপদে সংরক্ষণ করছেন। ছবি : সংগৃহীত
জরিপ অনুযায়ী, অধিকাংশ আমেরিকান ইরানে সেনা পাঠানোর বিরোধিতা করে।

এই সপ্তাহে কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা, যাদের বেশিরভাগই বামপন্থী এর বিপক্ষে রয়েচে। যুদ্ধের শুরুতে ওয়াশিংটন পোস্টের এক দ্রুত এসএমএস জরিপেও অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করেন।

এছাড়া, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পরপরই করা রয়টার্স-ইপসোস জরিপে দেখা যায়, ৪৩ শতাংশ মানুষ যুদ্ধের বিরোধিতা করেছেন এবং ২৯ শতাংশ অনিশ্চিত ছিলেন। মাত্র চারজনের একজন এই যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলাকে সমর্থন করেছেন।

কী হতে পারে ?

বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী। সংঘাতের যদি এই পথ বন্ধ হয়ে যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাসের বাজারে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এছাড়া ইরান তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেসব দেশের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এতে বড় ধরনের মানবিক সংকট তৈরির পাশাপাশি পুরো অঞ্চল অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা করতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। সম্ভাব্য এসব হামলায় ইরান আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। যার কারণে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো- বৈশ্বিক রাজনীতি আর অর্থনৈতিক এ চরম সংকটে দুই পক্ষ দুই মেরুতে অবস্থান করছে। কোনো আপসের লক্ষণ না থাকার ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে।

এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রায় কোটির উপরে মানুষ ৫০টি রাজ্যেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন। বিক্ষোভকারীর সংখ্যা এতই দ্রুত বাড়ছে তা ট্রাম্প প্রশাসনের বুঝতে হয়ত দেরি করে ফেলেছেন।

সুত্র : সিএনএন ও আলজাজিরার।