ঢাকা ০৪:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

“বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬” সম্প্রচারের আলোচনায় বিটিভির পাশাপাশি দুটি বেসরকারি চ্যানেল।

স্পোর্টস ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬ ১৬৭ বার পড়া হয়েছে

(ছবি সংগৃহীত)

স্পোর্টস ডেস্ক:

আর মাত্র সাত দিন পর মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর “বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬”। সারা বিশ্বের পাশাপাশি দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে বিশ্বকাপ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়ে চলছে নীরব কিন্তু তীব্র দৌড়ঝাঁপ। এই দৌড়ে আলোচনায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভির পাশাপাশি দেশের দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি এক সামাজিক উৎসব। বিশ্বকাপ এলেই গ্রাম থেকে শহর, চায়ের দোকান থেকে অভিজাত ক্লাব সবখানেই শুরু হয় ফুটবল উন্মাদনা। তাই বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পাওয়া শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়, এটি মর্যাদা, দর্শকসংখ্যা এবং বাজার দখলেরও বড় লড়াই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও দুটি বেসরকারি টেলিভিশন ও বিটিভি সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কেনার জন্য বিটিভিকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি নির্দিষ্ট শর্তে সেই সম্প্রচার সুবিধা বিনামূল্যে পেতে পারে।বিটিভির মূল ভূমিকা হবে দেশের সাধারণ দর্শকের জন্য সম্প্রচার নিশ্চিত করা।

জানা গেছে, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করেছে। তাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশের বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দর্শকবান্ধব একটি সমাধানে পৌঁছানো।

সূত্রগুলো জানায়, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির দায়িত্ব প্রথমে দেওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানকে। কাতার বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতায় এবারও তুলনামূলক উচ্চ মূল্যে স্বত্ব বিক্রির চেষ্টা করা হয়। শুরুতে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কিন্তু বাংলাদেশের বাজার বাস্তবতা ভিন্ন। বিজ্ঞাপন বাজার, সম্প্রচার খাতের সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় সেই মূল্যকে অনেকেই অযৌক্তিক মনে করেন। ফলে দীর্ঘ আলোচনা ও দেনদরবারের পর মূল্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলারে আলোচনার বিষয়টি সীমাবদ্ধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

তবে এই মূল্য নিয়েও আপত্তি রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশের বাজারের জন্য এই অঙ্কও তুলনামূলক বেশি।

সংশ্লিষ্ট সুত্রের মতে,বাংলাদেশের বাজারকে ঘিরে যেসব অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত মুনাফাভিত্তিক বাণিজ্যিক চক্র সক্রিয় রয়েছে, সেগুলো থেকে বেরিয়ে এসে সরাসরি ও স্বচ্ছ উপায়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।

একাধিক ক্রীড়া সংগঠকের মতে, বাংলাদেশের মতো বিশাল ফুটবলপ্রেমী বাজারকে অন্য কোনো দেশের সম্প্রচার বলয়ের অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের জন্য আলাদা বাজারভিত্তিক মূল্যায়ন এবং স্বতন্ত্র সম্প্রচার কাঠামো নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

অন্যদিকে দুটি বেসরকারি টেলিভিশনও সম্প্রচার স্বত্ব কিংবা সাব লাইসেন্স পাওয়ার লক্ষ্যে সক্রিয় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত একাধিক প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপ সম্প্রচার হলে দেশের দর্শকরা আরও সহজে খেলা উপভোগ করতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ কেবল ব্যবসার পণ্য নয়; এটি মানুষের আবেগের অংশ। বিশ্বের বহু দেশে ফিফা দর্শকের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে উন্মুক্ত সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই দৃষ্টিভঙ্গি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

“বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬” সম্প্রচারের আলোচনায় বিটিভির পাশাপাশি দুটি বেসরকারি চ্যানেল।

আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

(ছবি সংগৃহীত)

স্পোর্টস ডেস্ক:

আর মাত্র সাত দিন পর মাঠে গড়াচ্ছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর “বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬”। সারা বিশ্বের পাশাপাশি দেশের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর কাছে বিশ্বকাপ পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কার হাতে যাবে, তা নিয়ে চলছে নীরব কিন্তু তীব্র দৌড়ঝাঁপ। এই দৌড়ে আলোচনায় রয়েছে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভির পাশাপাশি দেশের দুটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল।

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়, এটি এক সামাজিক উৎসব। বিশ্বকাপ এলেই গ্রাম থেকে শহর, চায়ের দোকান থেকে অভিজাত ক্লাব সবখানেই শুরু হয় ফুটবল উন্মাদনা। তাই বিশ্বকাপ সম্প্রচারের স্বত্ব পাওয়া শুধু ব্যবসায়িক বিষয় নয়, এটি মর্যাদা, দর্শকসংখ্যা এবং বাজার দখলেরও বড় লড়াই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রচার নিয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখালেও দুটি বেসরকারি টেলিভিশন ও বিটিভি সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব কেনার জন্য বিটিভিকে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। প্রচলিত নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করলে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি নির্দিষ্ট শর্তে সেই সম্প্রচার সুবিধা বিনামূল্যে পেতে পারে।বিটিভির মূল ভূমিকা হবে দেশের সাধারণ দর্শকের জন্য সম্প্রচার নিশ্চিত করা।

জানা গেছে, বিশ্বকাপ সম্প্রচারের বিষয়টি নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি কয়েক দফা বৈঠক করেছে। তাদের লক্ষ্য, বাংলাদেশের বাজার বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দর্শকবান্ধব একটি সমাধানে পৌঁছানো।

সূত্রগুলো জানায়, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রির দায়িত্ব প্রথমে দেওয়া হয়েছিল সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানকে। কাতার বিশ্বকাপের ধারাবাহিকতায় এবারও তুলনামূলক উচ্চ মূল্যে স্বত্ব বিক্রির চেষ্টা করা হয়। শুরুতে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কিন্তু বাংলাদেশের বাজার বাস্তবতা ভিন্ন। বিজ্ঞাপন বাজার, সম্প্রচার খাতের সক্ষমতা এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় সেই মূল্যকে অনেকেই অযৌক্তিক মনে করেন। ফলে দীর্ঘ আলোচনা ও দেনদরবারের পর মূল্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ৪ মিলিয়ন ডলারে আলোচনার বিষয়টি সীমাবদ্ধ হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি।

তবে এই মূল্য নিয়েও আপত্তি রয়েছে সরকারের। বাংলাদেশের বাজারের জন্য এই অঙ্কও তুলনামূলক বেশি।

সংশ্লিষ্ট সুত্রের মতে,বাংলাদেশের বাজারকে ঘিরে যেসব অস্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত মুনাফাভিত্তিক বাণিজ্যিক চক্র সক্রিয় রয়েছে, সেগুলো থেকে বেরিয়ে এসে সরাসরি ও স্বচ্ছ উপায়ে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের ব্যবস্থা করাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।

একাধিক ক্রীড়া সংগঠকের মতে, বাংলাদেশের মতো বিশাল ফুটবলপ্রেমী বাজারকে অন্য কোনো দেশের সম্প্রচার বলয়ের অংশ হিসেবে দেখার প্রবণতা থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের জন্য আলাদা বাজারভিত্তিক মূল্যায়ন এবং স্বতন্ত্র সম্প্রচার কাঠামো নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

অন্যদিকে দুটি বেসরকারি টেলিভিশনও সম্প্রচার স্বত্ব কিংবা সাব লাইসেন্স পাওয়ার লক্ষ্যে সক্রিয় রয়েছে। শেষ পর্যন্ত একাধিক প্ল্যাটফর্মে বিশ্বকাপ সম্প্রচার হলে দেশের দর্শকরা আরও সহজে খেলা উপভোগ করতে পারবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ কেবল ব্যবসার পণ্য নয়; এটি মানুষের আবেগের অংশ। বিশ্বের বহু দেশে ফিফা দর্শকের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে উন্মুক্ত সম্প্রচারের ব্যবস্থা করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সেই দৃষ্টিভঙ্গি প্রযোজ্য হওয়া উচিত।