ঢাকা ০২:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

ভিন্নধর্মী মতামত বিশ্লেষণ :

বর্তমান বাংলাদেশে নিরাপত্তার দুরবস্থা!

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৮:৩১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ ২৩৯ বার পড়া হয়েছে

 

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক :

ট্রেন যাচ্ছিল একেক দিকে। চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহে। ভৈরবে থামিয়ে ট্রেনগুলোতে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করা হলো। হাজার হাজার যাত্রী ভয়ে তটস্থ হলেন। কেউ কেউ আহত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। এক ভয়ানক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা যাত্রা শেষ করলেন। সঙ্গে পেলেন চরম নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি।

কেন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক নিরাপত্তার এতো দুরবস্থা? তাদের কোন অপরাধে এমন নারকীয় ভীতির স্বাদ গ্রহণ করতে হলো? হারাতে হলো নিরাপদ যাত্রার অধিকার?

ঘটনা হলো, ভৈরব উপজেলা থেকে জেলা হতে চায়। সেটা ভৈরববাসী চাইতেই পারে। এই চাওয়ার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের অধিবাসী ও রেলযাত্রীদের আদৌ কোনও সংযোগ বা সম্পর্কই নেই। তারা ভৈরবকে জেলা হতেও বলছে না, নিষেধও করছে না। ভৈরবের বাইরের মানুষ পুরো ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হওয়ার পরেও তারাই আক্রান্ত হলো। এই আক্রমণের কোনও কারণ নেই। আর আক্রমণ দাবি আদায়ের অস্ত্রও নয়। দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ সভাসমাবেশ, মানববন্ধন, জনমত গঠন করা যায়। সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে দেন-দরবার করা যায়। এসব না করে রেলযাত্রীদের বর্বরোচিত হামলা করায় কার লাভ হলো?

প্রথমত আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়ত, দাবির প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতির জায়গা নষ্ট হয়ে বরং ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে। তৃতীয়ত, এই ঘটনা দাবি আদায়ের আন্দোলনের বদলে শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক ইমেজ পেয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও কৌশল গ্রহণকালে এসব দিক বিবেচনা করে অগ্রসর হওয়া এবং সাধারণ রেলযাত্রীদের আক্রমণ করে প্রতিপক্ষ বানানোর বোকামি থেকে মুক্ত থাকা।

উল্লেখ্য, ভৈরবকাণ্ড একটি দৃষ্টান্ত মাত্র। গত কয়েক সপ্তাহের আলোচিত খবরের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তার দুরবস্থা সংক্রান্ত খবরগুলো। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নিরাপত্তার নাজুক বিবরণ। বাংলাদেশের উত্তপ্ত রাজনীতি ও নির্বাচনী আবহে এমন খবরের গুরুত্ব থাকে সবচেয়ে বেশি। যেমন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, সংঘাত ও বিরোধী মত দমনের কারণে ২০২৪ সালে এক লাখ ৫৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের মধ্যে দুই হাজার ৮০০ জন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। বাকিরা দেশে আছে, নাকি দেশের বাইরে চলে গেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি) ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এই তথ্য জানিয়েছে।

সারা দেশে নিত্যদিনের রাজনৈতিক সহিংসতা, সংঘাত ও বিরোধী মত দমনের পাশাপাশি নির্বাচন পূর্ব ও উত্তরকালে সংঘাত, উত্তেজনা ও সংঘর্ষের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় ব্যাপক হারে। অতীতে এমন কোনও নির্বাচন সম্পন্ন হয় নি রক্তপাত ও প্রাণহানি ছাড়া। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সঙ্গে শুধু সুষ্ঠু ভোট প্রদান নয়, ভোটারদের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়গুলোও জড়িত। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, নির্বাচনী সন্ত্রাস, সংঘাত নিরসন কল্পে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও ঐকমত্য বলতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। বরং যে দল যেখানে শক্তিশালী সেখানে তাদের তরফে বলপ্রয়োগ ও শক্তি প্রদর্শন করা একটি রাজনৈতিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যার প্রতিফল হলো নিরাপত্তার দুরবস্থা।
একজন নাগরিকেরও জীবনের নিরাপত্তা নেই, খাল,বিল,ডোবা, নদী,নালা থেকে এখনও অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে গেছে। এক রুগ্ন বিকলাঙ্গ বাংলাদেশ এর আগামীর ছবি ভেসে উঠছে বুদ্ধিজীবীদের কাছে।কিন্ত সবাই যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। বাকরুদ্ধ বাংলাদেশ। সাংবাদিকদের মধ্যেও এমন ভীতির সঞ্চার করা হচ্ছে যার কারণে দেশের পত্র – পত্রিকায় না আসলেও বিদেশী গণমাধ্যম গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করছে।

নিরাপত্তার দুরবস্থা মব জাস্টিস, বলপ্রয়োগ, হুমকি দেওয়ার সাম্প্রতিক বহু ঘটনায় একাধিক বার দেখা যাচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনায় বা ন্যায্য দাবিতেও শান্তি ও নিরাপত্তা বিনষ্ট করা হচ্ছে। অসহিষ্ণুতার পারদ তরতর করে বাড়ছে সমাজে, সংসারে, রাজনীতিতে। কেউ কাউকে গ্রাহ্য করছে না। এমতাবস্থায় সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সামাজিক ক্ষেত্রেও সমস্যাটি ছড়িয়ে পড়ছে। ভৈরবের ঘটনা যার সর্বশেষ নজির। এ ঘটনা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারেন কর্তাব্যক্তিগণ। আর তা হলো, সামনের অতি-আলোচিত নির্বাচনকে সফল ও অবিতর্কিত করতে হলে সংঘাত, অসহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসের লাগাম টানতে হবে। তা করা হলে নির্বাচনসহ গণতান্ত্রিক উত্তরণের যাবতীয় আয়োজনই ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে। বিদ্যমান পরিস্থিতি দেখে এমন আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নির্বাচন, এমনকি, তফসিল বা প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের ভেতরে কিংবা অন্যদলের সঙ্গে প্রাধান্য বিস্তারের লড়াইয়ে রক্তপাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে (দ্রষ্টব্য: চট্টগ্রামের রাউজান)। এখনই থামানো না গেলে নির্বাচনের আগে এসব দ্বন্দ্ব, সংঘাত, উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বত্র দাবানল সৃষ্টি করতে পারে।

অতএব, দাবানল সৃষ্টির আগেই সতর্ক হওয়া সুবিবেচনার কাজ হবে। এবং যেকোনও মূল্যে নিরাপত্তার দুরবস্থাকে সু-অবস্থায় উত্তীর্ণ করা সকলের জন্যেই কল্যাণকর হবে।

লেখক:ড. মাহফুজ পারভেজ, চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্র : সংগৃহিত,একটি সাক্ষাৎকার থেকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ভিন্নধর্মী মতামত বিশ্লেষণ :

বর্তমান বাংলাদেশে নিরাপত্তার দুরবস্থা!

আপডেট সময় : ০৮:৩১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

 

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক :

ট্রেন যাচ্ছিল একেক দিকে। চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহে। ভৈরবে থামিয়ে ট্রেনগুলোতে বৃষ্টির মতো পাথর নিক্ষেপ করা হলো। হাজার হাজার যাত্রী ভয়ে তটস্থ হলেন। কেউ কেউ আহত ও আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। এক ভয়ানক পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা যাত্রা শেষ করলেন। সঙ্গে পেলেন চরম নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি।

কেন সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক নিরাপত্তার এতো দুরবস্থা? তাদের কোন অপরাধে এমন নারকীয় ভীতির স্বাদ গ্রহণ করতে হলো? হারাতে হলো নিরাপদ যাত্রার অধিকার?

ঘটনা হলো, ভৈরব উপজেলা থেকে জেলা হতে চায়। সেটা ভৈরববাসী চাইতেই পারে। এই চাওয়ার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন স্থানের অধিবাসী ও রেলযাত্রীদের আদৌ কোনও সংযোগ বা সম্পর্কই নেই। তারা ভৈরবকে জেলা হতেও বলছে না, নিষেধও করছে না। ভৈরবের বাইরের মানুষ পুরো ঘটনা থেকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হওয়ার পরেও তারাই আক্রান্ত হলো। এই আক্রমণের কোনও কারণ নেই। আর আক্রমণ দাবি আদায়ের অস্ত্রও নয়। দাবির পক্ষে শান্তিপূর্ণ সভাসমাবেশ, মানববন্ধন, জনমত গঠন করা যায়। সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে দেন-দরবার করা যায়। এসব না করে রেলযাত্রীদের বর্বরোচিত হামলা করায় কার লাভ হলো?

প্রথমত আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে একটি নেতিবাচক বার্তা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। দ্বিতীয়ত, দাবির প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতির জায়গা নষ্ট হয়ে বরং ক্ষোভ সঞ্চারিত হয়েছে। তৃতীয়ত, এই ঘটনা দাবি আদায়ের আন্দোলনের বদলে শান্তিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিঘ্নকারী কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক ইমেজ পেয়েছে। ফলে সংশ্লিষ্টদের উচিত হবে আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ ও কৌশল গ্রহণকালে এসব দিক বিবেচনা করে অগ্রসর হওয়া এবং সাধারণ রেলযাত্রীদের আক্রমণ করে প্রতিপক্ষ বানানোর বোকামি থেকে মুক্ত থাকা।

উল্লেখ্য, ভৈরবকাণ্ড একটি দৃষ্টান্ত মাত্র। গত কয়েক সপ্তাহের আলোচিত খবরের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তার দুরবস্থা সংক্রান্ত খবরগুলো। নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে নিরাপত্তার নাজুক বিবরণ। বাংলাদেশের উত্তপ্ত রাজনীতি ও নির্বাচনী আবহে এমন খবরের গুরুত্ব থাকে সবচেয়ে বেশি। যেমন, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা, সংঘাত ও বিরোধী মত দমনের কারণে ২০২৪ সালে এক লাখ ৫৯ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের মধ্যে দুই হাজার ৮০০ জন অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে। বাকিরা দেশে আছে, নাকি দেশের বাইরে চলে গেছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইন্টারন্যাশনাল ডিসপ্লেসমেন্ট মনিটরিং সেন্টার (আইডিএমসি) ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এই তথ্য জানিয়েছে।

সারা দেশে নিত্যদিনের রাজনৈতিক সহিংসতা, সংঘাত ও বিরোধী মত দমনের পাশাপাশি নির্বাচন পূর্ব ও উত্তরকালে সংঘাত, উত্তেজনা ও সংঘর্ষের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় ব্যাপক হারে। অতীতে এমন কোনও নির্বাচন সম্পন্ন হয় নি রক্তপাত ও প্রাণহানি ছাড়া। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের সঙ্গে শুধু সুষ্ঠু ভোট প্রদান নয়, ভোটারদের সামগ্রিক নিরাপত্তা এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের সার্বিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়গুলোও জড়িত। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, নির্বাচনী সন্ত্রাস, সংঘাত নিরসন কল্পে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও ঐকমত্য বলতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। বরং যে দল যেখানে শক্তিশালী সেখানে তাদের তরফে বলপ্রয়োগ ও শক্তি প্রদর্শন করা একটি রাজনৈতিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। যার প্রতিফল হলো নিরাপত্তার দুরবস্থা।
একজন নাগরিকেরও জীবনের নিরাপত্তা নেই, খাল,বিল,ডোবা, নদী,নালা থেকে এখনও অজ্ঞাতনামা লাশ উদ্ধার, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে গেছে। এক রুগ্ন বিকলাঙ্গ বাংলাদেশ এর আগামীর ছবি ভেসে উঠছে বুদ্ধিজীবীদের কাছে।কিন্ত সবাই যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেছে। বাকরুদ্ধ বাংলাদেশ। সাংবাদিকদের মধ্যেও এমন ভীতির সঞ্চার করা হচ্ছে যার কারণে দেশের পত্র – পত্রিকায় না আসলেও বিদেশী গণমাধ্যম গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করছে।

নিরাপত্তার দুরবস্থা মব জাস্টিস, বলপ্রয়োগ, হুমকি দেওয়ার সাম্প্রতিক বহু ঘটনায় একাধিক বার দেখা যাচ্ছে। তুচ্ছ ঘটনায় বা ন্যায্য দাবিতেও শান্তি ও নিরাপত্তা বিনষ্ট করা হচ্ছে। অসহিষ্ণুতার পারদ তরতর করে বাড়ছে সমাজে, সংসারে, রাজনীতিতে। কেউ কাউকে গ্রাহ্য করছে না। এমতাবস্থায় সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সামাজিক ক্ষেত্রেও সমস্যাটি ছড়িয়ে পড়ছে। ভৈরবের ঘটনা যার সর্বশেষ নজির। এ ঘটনা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিতে পারেন কর্তাব্যক্তিগণ। আর তা হলো, সামনের অতি-আলোচিত নির্বাচনকে সফল ও অবিতর্কিত করতে হলে সংঘাত, অসহিষ্ণুতা ও সন্ত্রাসের লাগাম টানতে হবে। তা করা হলে নির্বাচনসহ গণতান্ত্রিক উত্তরণের যাবতীয় আয়োজনই ভণ্ডুল হয়ে যেতে পারে। বিদ্যমান পরিস্থিতি দেখে এমন আশংকা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নির্বাচন, এমনকি, তফসিল বা প্রার্থী ঘোষণার আগেই দেশের বিভিন্ন স্থানে দলের ভেতরে কিংবা অন্যদলের সঙ্গে প্রাধান্য বিস্তারের লড়াইয়ে রক্তপাত ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে (দ্রষ্টব্য: চট্টগ্রামের রাউজান)। এখনই থামানো না গেলে নির্বাচনের আগে এসব দ্বন্দ্ব, সংঘাত, উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়ে সর্বত্র দাবানল সৃষ্টি করতে পারে।

অতএব, দাবানল সৃষ্টির আগেই সতর্ক হওয়া সুবিবেচনার কাজ হবে। এবং যেকোনও মূল্যে নিরাপত্তার দুরবস্থাকে সু-অবস্থায় উত্তীর্ণ করা সকলের জন্যেই কল্যাণকর হবে।

লেখক:ড. মাহফুজ পারভেজ, চেয়ারম্যান, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

সূত্র : সংগৃহিত,একটি সাক্ষাৎকার থেকে।