ঢাকা ০৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬,

জার্মানির বিতর্কিত গোল বাতিল নিয়ে ব্যাখ্যা দিল ফিফা!

স্পোর্টস ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

স্পোর্টস ডেস্ক:

প্রতিটি বিশ্বকাপ ফুটবল কিছু বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে জার্মানিকে দেয়া পেনাল্টি। যা আর্জেন্টিনাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আবার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাত দিয়ে গোল করা ইত্যাদি। এবারের বিশ্বকাপ তার ব্যতিক্রম নয়।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআরে জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলে জানিয়েছে ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফার রেফারিপ্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন নিজেদের অবস্থান।

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক উল্লেখ করে কলিনা বলেন, ফুটবলে সময় অপচয় আটকানো এবং খেলাকে আরও সুন্দর করতে কিছু কঠোর নিয়ম আনা হয়েছে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে তার কথা, ‘যদিও নিজের অবস্থান ধরে রাখা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো ফাউল নয়, তবে যখন একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় বলের প্রতি কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে, এমনকি সামান্যতম হলেও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গতিবিধিকে বাধাগ্রস্ত করার স্পষ্ট উদ্দেশ্যে নড়াচড়া করেন এবং তাকে রক্ষণভাগ সামলানো (ডিফেন্ড করা) থেকে বিরত রাখেন, তখন রেফারিদের এবং প্রয়োজনে ভিএআর এর এই ঘটনা সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা উচিত এবং হস্তক্ষেপ করা উচিত।’

গোলরক্ষকদের সুরক্ষার ওপরও বিশেষভাবে জোর দেন কলিনা, ‘বিশেষ করে যখন এই কৌশলের উদ্দেশ্য থাকে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে গোল রক্ষা করা (ডিফেন্ড করা) থেকে বিরত রাখা। কোচ ও খেলোয়াড়দের এ বিষয়ে আগেই অবহিত করা হয়েছিল, তাই রেফারিরা এই ফাউলগুলোর শাস্তি দিলে তা কোনো বিস্ময় হিসেবে আসা উচিত নয়।’

একই সঙ্গে আধুনিক ফুটবলের গতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফিফার নেওয়া অন্যান্য পদক্ষেপের সাফল্যও তুলে ধরেন ফিফার রেফারিপ্রধান। কলিনা বলেন, সময়ের অপচয় রোধ করার পদক্ষেপগুলো সফল হয়েছে। গোল কিক, থ্রো-ইন এবং খেলোয়াড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখন নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে, পাশাপাশি খেলোয়াড়েরা চোটে পড়লে তাদের এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ফিফার এই নতুন উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছেন কলিনা, ‘এ পদক্ষেপগুলো সবই অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং সর্বসম্মতভাবে বেশ ইতিবাচক উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় গত সোমবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল পরাশক্তি জার্মানি এবং লড়াকু প্যারাগুয়ে। ১–১ ম্যাচ শেষে অতিরিক্ত সময়ে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে জার্মানির ডিফেন্ডার জোনাথান টাহ দুর্দান্ত এক হেডে বল পাঠান প্যারাগুয়ের জালে। গ্যালারিতে তখন জার্মানির সমর্থকদের উল্লাস, আর মাঠে জার্মান খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা আনন্দ।

সবাই ভেবেছিলেন, এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে গেল জার্মানির জয়। কিন্তু নাটকের তখনো অনেক বাকি ছিল। রেফারি ইশারা করলেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকে। রিপ্লেতে দেখা গেল, গোলটি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে জার্মানির আরেক খেলোয়াড় ভালডেমার আন্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক রলান্দো হিলকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন। যদিও সেই ধাক্কা বা স্পর্শ ছিল খুবই সামান্য, কিন্তু নিয়মের কারণে রেফারি গোলটি বাতিল করে দিলেন।

জার্মান–শিবিরে নেমে এল ঘোর অন্ধকার। তীব্র সমালোচনা আর বিতর্কের ঝড় উঠল ফুটবল–বিশ্বে। অনেকেই বলতে লাগলেন, এত সামান্য স্পর্শের জন্য গোল বাতিল করা অন্যায়! সেই পরিপ্রেক্ষিতেই ফিফা তার অবস্থান জানাল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬,

জার্মানির বিতর্কিত গোল বাতিল নিয়ে ব্যাখ্যা দিল ফিফা!

আপডেট সময় : ০৬:৩৮:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক:

প্রতিটি বিশ্বকাপ ফুটবল কিছু বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে জার্মানিকে দেয়া পেনাল্টি। যা আর্জেন্টিনাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। আবার ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ম্যারাডোনার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাত দিয়ে গোল করা ইত্যাদি। এবারের বিশ্বকাপ তার ব্যতিক্রম নয়।

প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে ভিএআরে জার্মানির গোল বাতিলের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল বলে জানিয়েছে ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা ফিফা। বিশ্বজুড়ে চলতে থাকা বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফার রেফারিপ্রধান পিয়েরলুইজি কলিনা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন নিজেদের অবস্থান।

গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক উল্লেখ করে কলিনা বলেন, ফুটবলে সময় অপচয় আটকানো এবং খেলাকে আরও সুন্দর করতে কিছু কঠোর নিয়ম আনা হয়েছে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে তার কথা, ‘যদিও নিজের অবস্থান ধরে রাখা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো ফাউল নয়, তবে যখন একজন আক্রমণভাগের খেলোয়াড় বলের প্রতি কোনো আগ্রহ না দেখিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে, এমনকি সামান্যতম হলেও প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গতিবিধিকে বাধাগ্রস্ত করার স্পষ্ট উদ্দেশ্যে নড়াচড়া করেন এবং তাকে রক্ষণভাগ সামলানো (ডিফেন্ড করা) থেকে বিরত রাখেন, তখন রেফারিদের এবং প্রয়োজনে ভিএআর এর এই ঘটনা সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করা উচিত এবং হস্তক্ষেপ করা উচিত।’

গোলরক্ষকদের সুরক্ষার ওপরও বিশেষভাবে জোর দেন কলিনা, ‘বিশেষ করে যখন এই কৌশলের উদ্দেশ্য থাকে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে গোল রক্ষা করা (ডিফেন্ড করা) থেকে বিরত রাখা। কোচ ও খেলোয়াড়দের এ বিষয়ে আগেই অবহিত করা হয়েছিল, তাই রেফারিরা এই ফাউলগুলোর শাস্তি দিলে তা কোনো বিস্ময় হিসেবে আসা উচিত নয়।’

একই সঙ্গে আধুনিক ফুটবলের গতি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ফিফার নেওয়া অন্যান্য পদক্ষেপের সাফল্যও তুলে ধরেন ফিফার রেফারিপ্রধান। কলিনা বলেন, সময়ের অপচয় রোধ করার পদক্ষেপগুলো সফল হয়েছে। গোল কিক, থ্রো-ইন এবং খেলোয়াড় পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এখন নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে, পাশাপাশি খেলোয়াড়েরা চোটে পড়লে তাদের এক মিনিটের জন্য মাঠের বাইরে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে।

ফিফার এই নতুন উদ্যোগগুলোর প্রশংসা করেছেন কলিনা, ‘এ পদক্ষেপগুলো সবই অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং সর্বসম্মতভাবে বেশ ইতিবাচক উদ্ভাবন হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় গত সোমবার রাতে বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে মুখোমুখি হয়েছিল পরাশক্তি জার্মানি এবং লড়াকু প্যারাগুয়ে। ১–১ ম্যাচ শেষে অতিরিক্ত সময়ে নাথানিয়েল ব্রাউনের কর্নার থেকে জার্মানির ডিফেন্ডার জোনাথান টাহ দুর্দান্ত এক হেডে বল পাঠান প্যারাগুয়ের জালে। গ্যালারিতে তখন জার্মানির সমর্থকদের উল্লাস, আর মাঠে জার্মান খেলোয়াড়দের বাঁধভাঙা আনন্দ।

সবাই ভেবেছিলেন, এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে গেল জার্মানির জয়। কিন্তু নাটকের তখনো অনেক বাকি ছিল। রেফারি ইশারা করলেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকে। রিপ্লেতে দেখা গেল, গোলটি হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে জার্মানির আরেক খেলোয়াড় ভালডেমার আন্টন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক রলান্দো হিলকে আলতো করে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়েছেন। যদিও সেই ধাক্কা বা স্পর্শ ছিল খুবই সামান্য, কিন্তু নিয়মের কারণে রেফারি গোলটি বাতিল করে দিলেন।

জার্মান–শিবিরে নেমে এল ঘোর অন্ধকার। তীব্র সমালোচনা আর বিতর্কের ঝড় উঠল ফুটবল–বিশ্বে। অনেকেই বলতে লাগলেন, এত সামান্য স্পর্শের জন্য গোল বাতিল করা অন্যায়! সেই পরিপ্রেক্ষিতেই ফিফা তার অবস্থান জানাল।