ঢাকা ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

চলতি বছর,

৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়া!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮৭ বার পড়া হয়েছে

(ছবি: সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সময়ে সারা দেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন।

লোকমান এফেন্দি বলেন, আটক হওয়া ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে জেআইএমের নিজস্ব অভিযান থেকে আটক করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজারের বেশি বিদেশিকে দেশের প্রবেশপথগুলোতে আটক করা হয়েছে অথবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে হস্তান্তরের পর আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে সারা দেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি অভিযান চালানো হয়েছে।

সোমবার ভোরে স্থানীয় একটি আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট শ্রী কলামে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। অভিযানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এমকেএন), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং মালয়েশিয়া সিভিল ডিফেন্স ফোর্স (এপিএম)-এর সদস্যরাও অংশ নেন।

ফ্ল্যাট শ্রী কলামের অভিযানে মোট ১৩৩ জন বিদেশি নাগরিককে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে প্রধানত নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং অনুমোদিত উদ্দেশের বাইরে পাস বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করার মতো অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু বিদেশি নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বাড়ি বা আবাসিক স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো নিয়োগকর্তা বৈধ কর্মসংস্থান পাস ছাড়া অবৈধ অভিবাসীকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। একইভাবে অবৈধ অভিবাসীদের কাছে বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

জেআইএমের এই কর্মকর্তা জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২৬০ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন নিয়োগকর্তা বা স্থাপনার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা নজরে এলে সাধারণ মানুষকে নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকমান এফেন্দি।

তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সম্ভব হলে ছবি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান দেশটিতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকার চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগকর্তা ও আবাসনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার বিষয়টি জোরদার করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

চলতি বছর,

৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়া!

আপডেট সময় : ০৯:২২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

(ছবি: সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মালয়েশিয়ায় চলতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীকে (পিএটিআই) আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। একই সময়ে সারা দেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করে ১ লাখ ৩০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের (জেআইএম) উপ-মহাপরিচালক (অপারেশন) দাতুক লোকমান এফেন্দি রামলি এ তথ্য জানিয়েছেন।

লোকমান এফেন্দি বলেন, আটক হওয়া ৫৭ হাজারের বেশি অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ৩৫ হাজারের বেশি জনকে জেআইএমের নিজস্ব অভিযান থেকে আটক করা হয়েছে। বাকি ২২ হাজারের বেশি বিদেশিকে দেশের প্রবেশপথগুলোতে আটক করা হয়েছে অথবা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে হস্তান্তরের পর আটক করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২৬০ দিনে সারা দেশে ৯ হাজার ৭০০টির বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ৩৭টি অভিযান চালানো হয়েছে।

সোমবার ভোরে স্থানীয় একটি আবাসিক এলাকায় ফ্ল্যাট শ্রী কলামে সমন্বিত অভিযান পরিচালনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান। অভিযানে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এমকেএন), জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন) এবং মালয়েশিয়া সিভিল ডিফেন্স ফোর্স (এপিএম)-এর সদস্যরাও অংশ নেন।

ফ্ল্যাট শ্রী কলামের অভিযানে মোট ১৩৩ জন বিদেশি নাগরিককে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৯ জনকে আটক করা হয়েছে।

অভিবাসন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে প্রধানত নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান, বৈধ ভ্রমণ নথি না থাকা এবং অনুমোদিত উদ্দেশের বাইরে পাস বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করার মতো অপরাধ শনাক্ত করা হয়েছে।

লোকমান এফেন্দি বলেন, অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুধু বিদেশি নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইন লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক এবং বাড়ি বা আবাসিক স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, কোনো নিয়োগকর্তা বৈধ কর্মসংস্থান পাস ছাড়া অবৈধ অভিবাসীকে নিয়োগ বা আশ্রয় দিলে তার বিরুদ্ধেও মামলা করা হবে। একইভাবে অবৈধ অভিবাসীদের কাছে বাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাড়া দেওয়া মালিকদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

জেআইএমের এই কর্মকর্তা জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১ হাজার ৭২০ জন নিয়োগকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ২৬০ দিনের হিসাবে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ছয়জন নিয়োগকর্তা বা স্থাপনার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

এদিকে অবৈধ অভিবাসীদের উপস্থিতি বা অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা নজরে এলে সাধারণ মানুষকে নিজের হাতে আইন তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন লোকমান এফেন্দি।

তিনি বলেন, বিদেশি নাগরিকদের কোনো অনিয়ম বা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা দেখলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। সম্ভব হলে ছবি ও ঘটনার বিস্তারিত তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের সাম্প্রতিক এই পরিসংখ্যান দেশটিতে অবৈধ অভিবাসনবিরোধী নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকার চিত্র তুলে ধরছে। বিশেষ করে বিদেশি শ্রমিকদের পাশাপাশি তাদের নিয়োগকর্তা ও আবাসনদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার বিষয়টি জোরদার করা হচ্ছে।