ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

মোহনপুর উপজেলায় সম্পন্ন হলো

‘সোনামনি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’এর রাজশাহী জেলা পশ্চিমের ফাইনাল।

মো, আলাউদ্দিন মন্ডল, রাজশাহী:
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

​মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল, রাজশাহী:

শরৎ কালের শুরু প্রথমে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ আহলে হাদিস আন্দোলন ও বাংলাদেশ আহলে হাদিস যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সোনামনি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর রাজশাহী জেলা পশ্চিম অঞ্চলের চূড়ান্ত পর্ব।

​রাজশাহী জেলার তিনটি উপজেলা—তানোর, গোদাগাড়ী এবং মোহনপুর—এর কৃতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় মোহনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধুরইল ডিএস কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে।

​প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ সপ্তাহে এই ফাইনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর জেলা পর্যায়ের এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে তিনটি উপজেলার মোট ৭২ জন শিশু শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিশেষ ব্যাপার হলো, বিগত উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল, কেবল তারাই জেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।

​আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রতিযোগিতায় মোট চারটি গ্রুপে (ক, খ, গ ও ঘ) শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭ থেকে ১১ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়ে শিশুরা ‘ক’ গ্রুপে এবং ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা ‘খ’ গ্রুপে সাধারণ শাখায় পার্টিসিপেট করে। প্রতিযোগিতায় ছেলেদের জন্য তিনটি এবং মেয়েদের জন্য তিনটি আলাদা গ্রুপ নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে ‘ঘ’ গ্রুপে শুধুমাত্র ছেলেরা ‘জাগরণী’ বিষয়ে অংশ নিয়ে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে।

​প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ৭২ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিচারকদের রায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।

​তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিকটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী এক সিদ্ধান্ত—প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কোনো শিশুই খালি হাতে ফেরেনি। বিজয়ী ছাড়াও অংশ নেওয়া সকল ছাত্র-ছাত্রীকে উৎসাহমূলক পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া, আয়োজক কমিটির বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিযোগীদের পাশাপাশি উপস্থিত সকল অভিভাবক এবং শিক্ষকমণ্ডলীকেও পুরস্কৃত করা হয়, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও বেশি আবেগঘন ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

​বাংলাদেশ আহলে হাদিস আন্দোলন ও বাংলাদেশ আহলে হাদিস যুব সংঘের সুশৃঙ্খল পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সোনামনি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় অনন্য ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

মোহনপুর উপজেলায় সম্পন্ন হলো

‘সোনামনি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’এর রাজশাহী জেলা পশ্চিমের ফাইনাল।

আপডেট সময় : ০৬:৩৫:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​মোঃ আলাউদ্দীন মন্ডল, রাজশাহী:

শরৎ কালের শুরু প্রথমে সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে এসে এক উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বাংলাদেশ আহলে হাদিস আন্দোলন ও বাংলাদেশ আহলে হাদিস যুব সংঘের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সোনামনি কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর রাজশাহী জেলা পশ্চিম অঞ্চলের চূড়ান্ত পর্ব।

​রাজশাহী জেলার তিনটি উপজেলা—তানোর, গোদাগাড়ী এবং মোহনপুর—এর কৃতি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই প্রতিযোগিতাটি অনুষ্ঠিত হয় মোহনপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ধুরইল ডিএস কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে।

​প্রতি বছর সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে শুরু হয়ে মাসব্যাপী বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে শেষ সপ্তাহে এই ফাইনাল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর জেলা পর্যায়ের এই চূড়ান্ত লড়াইয়ে তিনটি উপজেলার মোট ৭২ জন শিশু শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। বিশেষ ব্যাপার হলো, বিগত উপজেলা পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় যারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিল, কেবল তারাই জেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।

​আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এবারের প্রতিযোগিতায় মোট চারটি গ্রুপে (ক, খ, গ ও ঘ) শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭ থেকে ১১ বছর বয়সী ছেলে ও মেয়ে শিশুরা ‘ক’ গ্রুপে এবং ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা ‘খ’ গ্রুপে সাধারণ শাখায় পার্টিসিপেট করে। প্রতিযোগিতায় ছেলেদের জন্য তিনটি এবং মেয়েদের জন্য তিনটি আলাদা গ্রুপ নির্ধারিত ছিল। এর মধ্যে ‘ঘ’ গ্রুপে শুধুমাত্র ছেলেরা ‘জাগরণী’ বিষয়ে অংশ নিয়ে দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করে।

​প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ৭২ জন প্রতিযোগীর মধ্য থেকে বিচারকদের রায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়।

​তবে এই আয়োজনের সবচেয়ে বড় আনন্দের দিকটি ছিল ব্যতিক্রমধর্মী এক সিদ্ধান্ত—প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী কোনো শিশুই খালি হাতে ফেরেনি। বিজয়ী ছাড়াও অংশ নেওয়া সকল ছাত্র-ছাত্রীকে উৎসাহমূলক পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া, আয়োজক কমিটির বিশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিযোগীদের পাশাপাশি উপস্থিত সকল অভিভাবক এবং শিক্ষকমণ্ডলীকেও পুরস্কৃত করা হয়, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও বেশি আবেগঘন ও প্রাণবন্ত করে তোলে।

​বাংলাদেশ আহলে হাদিস আন্দোলন ও বাংলাদেশ আহলে হাদিস যুব সংঘের সুশৃঙ্খল পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সোনামনি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশ, নৈতিক শিক্ষা ও সুস্থ সংস্কৃতি চর্চায় অনন্য ভূমিকা রাখছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সুধীজন।