ঢাকা ০২:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

ছাত্র আন্দোলনের মুখে,

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ’ র পদত্যাগ !

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১১ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল। সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও বাড়ছিল। এর মধ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন।

রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের সামনে তিনি কথা বলেন। ভুচিচ বলেন, তার নয় বছরের শাসনে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি এখন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজের দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে চাইছেন। সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াতে পারেন না।

সরকার শুরু থেকেই ক্ষোভের মুখে ছিল। অভিযোগ ছিল, নির্মাণকাজে নিয়ম না মেনে খরচ কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে নভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ভেঙে পড়ে। এতে ১৬ জন মারা যান। এই ঘটনাই প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ উসকে দেয়।

আন্দোলনে নামেন নানা পেশার মানুষ। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকরা রাস্তায় নামেন। এতে সমর্থন জুগিয়েছিলেন দেশটির টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ। তবে ইতিহাসের সেরা এই টেনিস কিংবদন্তিকে শেষমেশ এই সমর্থনের কারণে দেশ ছাড়তে হয়।

আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ওই দুর্ঘটনা আসলে ভুচিচের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির এক যুগেরও বেশি শাসনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। স্টেশনটির সংস্কারের সঙ্গে ভুচিচ নিজেকে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়েছিলেন। সেটি ছিল সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা।

ভুচিচের অধীনে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা একে একে পদত্যাগ করেন। তবে তাতে আন্দোলনকারীরা শান্ত হননি। গ্রীষ্মজুড়ে বিক্ষোভ চলতে থাকে। পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগের পর বিক্ষোভ অশান্ত হয়ে ওঠে।

ভুচিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হয়। তাই এ বছর শেষ হওয়ার আগেই সার্বিয়ার মানুষ দুইবার ভোট দেবেন। ভুচিচ জানান, অক্টোবরের শেষ দিকে আগাম সংসদ নির্বাচন হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে তার এক মাসেরও বেশি পরে। আন্দোলনের চাপেই এই আগাম সংসদ নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির তালিকায় ভোটের দাবিও যোগ হয়েছিল।

আগেই ভুচিচ জানিয়েছিলেন, তিনি ওই নির্বাচনে প্রোগ্রেসিভ পার্টির নেতা হিসেবে লড়বেন। ফলে সার্বিয়ার রাজনীতির শীর্ষ পদে তার থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিও প্রোগ্রেসিভ পার্টির সদস্য।

ভুচিচ সংবিধানের দেওয়া ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন ছাত্র এবং দলের অনুগত কয়েকজন আছেন। সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসের তথ্য অনুযায়ী, তারা গত দেড় বছরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িত নানা অপরাধে সন্দেহভাজন ছিলেন। ভুচিচ ওই ঘটনাগুলোকে বলেছেন, ‘ভয়াবহ ঘটনা, যা আমরা গত দেড় বছরে পার করে এসেছি।’

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের প্রোগ্রেসিভ পার্টির মুখোমুখি হবে দুটি পক্ষ। একটি হলো ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’। অন্যটি পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপীয় সার্বিয়া’।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভুচিচ সার্বিয়ার রাজনীতির পরিচিত মুখ। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিক, এটাই তিনি চান। তবে একই সময়ে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছেন। চীনের বিনিয়োগের জন্যও দেশের দরজা খুলে দিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

ছাত্র আন্দোলনের মুখে,

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ’ র পদত্যাগ !

আপডেট সময় : ১১:২৯:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুচিচ পদত্যাগ করেছেন। এক বছরের বেশি সময় ধরে ছাত্রদের নেতৃত্বে আন্দোলন চলছিল। সরকারের দুর্নীতির অভিযোগে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও বাড়ছিল। এর মধ্যেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিলেন।

রাজধানী বেলগ্রেডে প্রেসিডেন্ট ভবনের বাইরে সমর্থকদের সামনে তিনি কথা বলেন। ভুচিচ বলেন, তার নয় বছরের শাসনে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। জুন মাসেই তিনি পদত্যাগের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি এখন আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিজের দলের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হতে চাইছেন। সংবিধান অনুযায়ী তিনি তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে দাঁড়াতে পারেন না।

সরকার শুরু থেকেই ক্ষোভের মুখে ছিল। অভিযোগ ছিল, নির্মাণকাজে নিয়ম না মেনে খরচ কমানো হয়েছে। ২০২৪ সালে নভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ভেঙে পড়ে। এতে ১৬ জন মারা যান। এই ঘটনাই প্রথম সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ উসকে দেয়।

আন্দোলনে নামেন নানা পেশার মানুষ। ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক ও কৃষকরা রাস্তায় নামেন। এতে সমর্থন জুগিয়েছিলেন দেশটির টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচ। তবে ইতিহাসের সেরা এই টেনিস কিংবদন্তিকে শেষমেশ এই সমর্থনের কারণে দেশ ছাড়তে হয়।

আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ওই দুর্ঘটনা আসলে ভুচিচের দল প্রোগ্রেসিভ পার্টির এক যুগেরও বেশি শাসনের ব্যর্থতার প্রতিফলন। স্টেশনটির সংস্কারের সঙ্গে ভুচিচ নিজেকে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়েছিলেন। সেটি ছিল সার্বিয়ার অগ্রগতির প্রতীক হওয়ার কথা।

ভুচিচের অধীনে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা একে একে পদত্যাগ করেন। তবে তাতে আন্দোলনকারীরা শান্ত হননি। গ্রীষ্মজুড়ে বিক্ষোভ চলতে থাকে। পুলিশের নির্যাতনের অভিযোগের পর বিক্ষোভ অশান্ত হয়ে ওঠে।

ভুচিচের মেয়াদ আগামী বছর শেষ হওয়ার কথা ছিল। সংবিধান অনুযায়ী, পদত্যাগের তিন মাসের মধ্যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হয়। তাই এ বছর শেষ হওয়ার আগেই সার্বিয়ার মানুষ দুইবার ভোট দেবেন। ভুচিচ জানান, অক্টোবরের শেষ দিকে আগাম সংসদ নির্বাচন হবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে তার এক মাসেরও বেশি পরে। আন্দোলনের চাপেই এই আগাম সংসদ নির্বাচনের ডাক দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনকারীদের দাবির তালিকায় ভোটের দাবিও যোগ হয়েছিল।

আগেই ভুচিচ জানিয়েছিলেন, তিনি ওই নির্বাচনে প্রোগ্রেসিভ পার্টির নেতা হিসেবে লড়বেন। ফলে সার্বিয়ার রাজনীতির শীর্ষ পদে তার থেকে যাওয়ার সুযোগ থাকছে।

নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংসদের স্পিকার আনা ব্রনাবিচ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করবেন। তিনিও প্রোগ্রেসিভ পার্টির সদস্য।

ভুচিচ সংবিধানের দেওয়া ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে ৪৯ জনকে ক্ষমা করেছেন। তাদের মধ্যে ২৩ জন ছাত্র এবং দলের অনুগত কয়েকজন আছেন। সার্বিয়ার সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম আরটিএসের তথ্য অনুযায়ী, তারা গত দেড় বছরের ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে জড়িত নানা অপরাধে সন্দেহভাজন ছিলেন। ভুচিচ ওই ঘটনাগুলোকে বলেছেন, ‘ভয়াবহ ঘটনা, যা আমরা গত দেড় বছরে পার করে এসেছি।’

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ভুচিচের প্রোগ্রেসিভ পার্টির মুখোমুখি হবে দুটি পক্ষ। একটি হলো ছাত্রদের নেতৃত্বাধীন দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ‘স্টুডেন্টস উইন’। অন্যটি পশ্চিমাপন্থী বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইউরোপীয় সার্বিয়া’।

এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভুচিচ সার্বিয়ার রাজনীতির পরিচিত মুখ। ২০১৪ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৭ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, সার্বিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিক, এটাই তিনি চান। তবে একই সময়ে তিনি রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখেছেন। চীনের বিনিয়োগের জন্যও দেশের দরজা খুলে দিয়েছেন।