ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

অভিভাবক ও স্থানীয়দের ক্ষোভ:

রাজশাহীর বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে শতভাগ ফেল!

নিজস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:২৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ১৫১ বার পড়া হয়েছে

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:

শিক্ষানগরী রাজশাহীর পবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবারের ২০২৫ এইচএসসি পরীক্ষায় নজিরবিহীন ফলাফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। ফলে এলাকায় হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বলছেন, এ ফলাফল দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়মের ফল। তাদের অভিযোগ, অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক টাকার বিনিময়ে চাকরি নিয়েছেন, ফলে যোগ্যতা নয়, অর্থই হয়েছে নিয়োগের মাপকাঠি। এর প্রভাবে শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়েছে।

একজন অভিভাবক বলেন, ‘অধ্যক্ষ আফসার উদ্দিন আওয়ামী লীগের আমলে এমপি আইনুদ্দিনের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পান। এরপর থেকেই কলেজটি ধ্বংসের পথে। এখন আমরা তারই ফল দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই ফলাফল পবায় শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দায়িত্বহীনতা একসময়ের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই লিখছেন, ‘কেউ পাশ করলে অবাক হতাম, ফেল শুনে অবাক হইনি।’
এক সাবেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, ‘এই অধ্যক্ষ আসার পর থেকে শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটি টিকবে না।’

আরেকজন, লিখেছেন, ‘এমন ব্যর্থতায় ফুল নয়, কঠোর শাস্তিই প্রাপ্য।’ কলেজের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধ্যক্ষ প্রায় সব সিদ্ধান্ত নিজে নেন, কারও পরামর্শ নেন না। শিক্ষার্থীদের ফলাফলের প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার পরিবেশ ফিরুক। কিন্তু অধ্যক্ষ কলেজটিকে এমনভাবে চালান, যেন এটি তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসা।’

রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাবে যোগ্যতার পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ধ্বংস হবেই। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান একই পরিণতির মুখে পড়বে।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজনে পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’

অধ্যক্ষ আফসার উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের অধিন ৩২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাশ করতে পারেনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

অভিভাবক ও স্থানীয়দের ক্ষোভ:

রাজশাহীর বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে শতভাগ ফেল!

আপডেট সময় : ১১:২৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৫

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:

শিক্ষানগরী রাজশাহীর পবা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে এবারের ২০২৫ এইচএসসি পরীক্ষায় নজিরবিহীন ফলাফল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে। ফলে এলাকায় হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিভাবক, সাবেক শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বলছেন, এ ফলাফল দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়মের ফল। তাদের অভিযোগ, অধ্যক্ষসহ কয়েকজন শিক্ষক টাকার বিনিময়ে চাকরি নিয়েছেন, ফলে যোগ্যতা নয়, অর্থই হয়েছে নিয়োগের মাপকাঠি। এর প্রভাবে শিক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়েছে।

একজন অভিভাবক বলেন, ‘অধ্যক্ষ আফসার উদ্দিন আওয়ামী লীগের আমলে এমপি আইনুদ্দিনের মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ পান। এরপর থেকেই কলেজটি ধ্বংসের পথে। এখন আমরা তারই ফল দেখছি।’

তিনি আরও বলেন, বায়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই ফলাফল পবায় শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটের প্রতিফলন। দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব ও দায়িত্বহীনতা একসময়ের সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিয়েছে।

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। অনেকেই লিখছেন, ‘কেউ পাশ করলে অবাক হতাম, ফেল শুনে অবাক হইনি।’
এক সাবেক শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, ‘এই অধ্যক্ষ আসার পর থেকে শিক্ষার পরিবেশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে প্রতিষ্ঠানটি টিকবে না।’

আরেকজন, লিখেছেন, ‘এমন ব্যর্থতায় ফুল নয়, কঠোর শাস্তিই প্রাপ্য।’ কলেজের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, অধ্যক্ষ প্রায় সব সিদ্ধান্ত নিজে নেন, কারও পরামর্শ নেন না। শিক্ষার্থীদের ফলাফলের প্রতি তাঁর কোনো আগ্রহ নেই। একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক বলেন, ‘আমরা চাই শিক্ষার পরিবেশ ফিরুক। কিন্তু অধ্যক্ষ কলেজটিকে এমনভাবে চালান, যেন এটি তাঁর ব্যক্তিগত ব্যবসা।’

রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক প্রভাবে যোগ্যতার পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে শিক্ষক নিয়োগ দিলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ধ্বংস হবেই। এখনই ব্যবস্থা না নিলে আরও অনেক প্রতিষ্ঠান একই পরিণতির মুখে পড়বে।’

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজনে পরিচালনা কমিটি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।’

অধ্যক্ষ আফসার উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রসঙ্গত, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের অধিন ৩২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কেউ পাশ করতে পারেনি।