রাজশাহী মহানগর দায়রা জজের বাসায় ঢুকে ছেলেকে কুপিয়ে হত্যা, স্ত্রী আহত!
- আপডেট সময় : ০৮:৩০:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ নভেম্বর ২০২৫ ২২৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি:
রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ জনাব আব্দুর রহমানের বাসায় ঢুকে তার ছেলে সুমন (১৬) কে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর ) বিকেল ৩টার দিকে নগরীর ডাবতলা মোড় নামক এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। জানা যায়, স্পার্ক ভিউ নামের দশতলা ভবনের পাঁচতলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন রাজশাহী মহানগর দায়রা জজ।
এই ঘটনায় বিচারকের স্ত্রী এবং হামলাকারী যুবকও আহত হয়েছেন। তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিচারকের স্ত্রী অজ্ঞান ছিলেন।
নিহত স্কুলছাত্রের নাম তাওসিফ রহমান সুমন (১৬)। ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সুমন নবম শ্রেণির ছাত্র।
সুমনের মায়ের নাম তাসমিন নাহার। তাকেও আহত অবস্থায় রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া হামলকারী যুবককেও আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভবনে ঢোকার সময় ওই যুবক দারোয়ানের কাছে থাকা খাতায় নিজের নাম লিখেছেন লিমন। বিচারক আব্দুর রহমান সম্পর্কে ভাই, এ পরিচয় দিয়ে তিনি পাঁচতলার ফ্ল্যাটে চলে যান। ভবনে ঢোকার সময় তার হাতে একটি ব্যাগ ছিল।
ভবনের দারোয়ান মেসের আলী ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণকে জানান, ঐ যুবককে তিনি আগে কখনও দেখেননি। বিচারককে ভাই পরিচয় দেওয়ায় তিনি ঢুকতে দেন। তবে তার আগে নাম ও মোবাইল নম্বর লিখিয়ে নেন। দুপুর আড়াইটার দিকে ওই যুবক ফ্ল্যাটে যান। এর প্রায় ৩০ মিনিট পর ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী তাকে এসে জানান যে, ফ্ল্যাটে বিচারকের ছেলেকে ও স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ভবনের অন্য ফ্ল্যাটের বাসিন্দারাও চলে আসেন। তারা সবাই ফ্ল্যাটে ঢুকে তিনজনকেই আহত পান। এরপর তিনজনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, নিহত সুমনের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। আর হামলকারী যুবক ও বিচারকের স্ত্রীকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর বিকেল ৫টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। তিনি জানান, হামলাকারী ব্যক্তির পকেটে একটি ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে তিনি চালক। তার সঙ্গে পূর্ববিরোধ থাকতে পারে।
পুলিশ কমিশনার জানান, সিলেটের সুরমা থানায় এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে জিডি করেছিলেন তাসমিন নাহার। কেন এই ঘটনা ঘটেছে তা তারা এখনও বিস্তারিত জানেন না বলে জানান।
এই ঘটনায় রাজশাহী নগরীতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জনগণের একটাই প্রশ্ন একজন বিচারকের ছেলেকে কেন হত্যা করা হয়েছে? তাৎক্ষণিক ভাবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও অচিরেই তা বেরিয়ে আসবে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা।















