থমথমে গোপালগঞ্জ
গ্রেপ্তার আতঙ্কে ঘরছাড়া অনেকে!
- আপডেট সময় : ১২:৫০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই ২০২৫ ৩৯১ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জ শহরে প্রবেশ পথেই পড়ে বিসিক ব্রিজ। বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা। আকাশ জুড়ে মেঘ। সঙ্গে ভ্যাপসা গরম। দিনের আলো থাকলেও গোটা সড়ক যেন অন্ধকারাচ্ছন্ন। জনশূন্য পথ।
কারফিউ এর কারণে দিনে-দুপুরেই ভুতুড়ে পরিস্থিতি। কিছুক্ষণ পর পর সাইরেন বাজিয়ে সাঁই সাঁই করে চলাচল করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি। জরুরি প্রয়োজনে দুই-একজন মানুষকে রাস্তায় দেখা গেলেও চলাচলে একেবারেই সতর্ক। বৃহষ্পতিবার দিনভরই এমন চিত্র দেখা গেছে গোপালগঞ্জে।
টানা কারফিউ’র কারণে ভোগান্তিও ছিল সাধারণ মানুষের। কারফিউ’র কারণে জেলা শহরে দিনভর ছিল সুনসান অবস্থা। উদ্বেগ-আতঙ্ক সর্বত্র। প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাইরে বের হচ্ছেন না। গ্রেপ্তার এড়াতে অনেকে ঘর বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন। গোপালগঞ্জ যেন বাংলাদেশের বাইরের কোন দেশ।যেখানে চলছে সামরিক অভিযান। যা সাধারণত: যুদ্ধক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়।অনেকেরই প্রশ্ন কার সঙ্গে কার যুদ্ধ হচ্ছে?
উল্লেখ্য যে, বুধবার জাতীয় নাগরিক পার্টির সমাবেশে আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের হামলা ও পরে সংঘর্ষের ঘটনায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে জেলায় ২২ ঘণ্টার জন্য কারফিউ জারি করা হয়।
সরজমিন দেখা যায়, বুধবার রাত আটটা থেকে শুরু হওয়া কারফিউ’র ফলে শহর থেকে গ্রাম সর্বত্র সুনসান। যে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগকে আগের দিন শহরজুড়ে সহিংস অবস্থানে দেখা গেছে তাদের কাউকেই আর গতকাল শহরে দেখা যায়নি। সবাই গা ঢাকা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সাধারণ মানুষও ঘরের বাইরে বের হননি। দোকানপাট ছিল বন্ধ। অলিগলিতে কিছু দোকান খোলা থাকলেও ক্রেতা দেখা যায়নি। এদিকে কারফিউ’র কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকায় ব্যাপক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন শহরের বাসিন্দারা। দিনের কোনো ভাগে কারফিউ’র বিরতি না থাকায় কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। বাসিন্দারা জানান, একটানা কারফিউ থাকায় দোকানপাট সব বন্ধ। ফলে জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার অবস্থাটাও তৈরি হয়নি। তারা আরও জানান, এই ধরনের পরিস্থিতি আগে খুব একটা দেখেননি। এটা তাদের কাছে নতুন এক অভিজ্ঞতা। তাদের চোখে মুখে আতঙ্ক।
গোপালগঞ্জের বিভিন্ন বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবারের ঘটনার পর পুরো জেলায় মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তারের ভয় কাজ করছে কম-বেশি সবার মাঝে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, কখনোই এমন পরিস্থিতি হয়নি। যারা হট্টগোল করেছে তাদের না ধরে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার কোনো কারণ থাকতে পারে না। সকালবেলা বেরিয়েছিলাম পুলিশ এসে তাড়া করে ঘরে ঢুকতে বলেছে।















