ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

জন্মনিয়ন্ত্রণ কি ইসলাম সমর্থন করে?

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক:
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬ ২৫৯ বার পড়া হয়েছে

(প্রতীকী ছবি)

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক:

আশরাফুল মাখলুকাত বলতে সৃষ্টির সেরা বুঝায়। পৃথিবীতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। আল্লাহতায়ালা মানুষের সৃষ্টির অসাধারণ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পৃথিবীর উৎকৃষ্ট নেয়ামতের মধ্যে সন্তান সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আল্লাহ যাকে চান তাকেই সন্তান দান করেন। অনেক মানুষ কোটি টাকা খরচ করেও সন্তানের মুখ দেখতে পারেন না। আর অনেকে সন্তান জন্মদানে অনীহা দেখায়। এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?

জন্মনিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা সম্পর্কে জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সম্প্রতি এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন— আমার বাচ্চার বয়স ১৪ মাস, আমার স্ত্রীর সিজার করা হয়েছিল। আমি আগামী ৪-৫ বছর বাচ্চা নিতে চাচ্ছি না। আমার প্রশ্ন— জন্মনিয়ন্ত্রণ ইমপ্লান্ট, কপাটি। এসব পদ্ধতি ইসলামে জায়েজ হবে কিনা। অথবা ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আছে কি?

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি সিজারে বাচ্চা হয়, আর ডাক্তার বলে এবার বাচ্চা নিলে মা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাহলে আপনি অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদ্ধতি কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়।

তার মতে, স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ (যেমন— বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি) সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক বিরতি দেওয়া বৈধ হলেও রিজিকের ভয়ে বা সন্তান লালন-পালনের অক্ষমতার অজুহাতে জন্মনিয়ন্ত্রণ করাকে তিনি ইসলামে সমর্থনযোগ্য মনে করেন না।

জন্মনিয়ন্ত্রণের মূল দিকগুলো হলো—

স্থায়ী পদ্ধতি নিষেধ: স্থায়ীভাবে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করা (বন্ধ্যত্বকরণ) ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

সাময়িক বিরতি বৈধ: স্ত্রীর অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক ও বৈধ কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিতে সাময়িক সময়ের জন্য সন্তান গ্রহণে বিরতি নেওয়া জায়েজ।

রিজিকের ভয় ও জন্মনিয়ন্ত্রণ: ‘কী খাওয়াব’ কিংবা ‘ভবিষ্যতে কীভাবে চালাব’—এজাতীয় পার্থিব ও আর্থিক দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কায় সন্তান না নেওয়া বা জন্মনিয়ন্ত্রণ করা অনুচিত।

আহমাদুল্লাহর মতে, আল্লাহতায়ালাই প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের জিম্মাদার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

জন্মনিয়ন্ত্রণ কি ইসলাম সমর্থন করে?

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

(প্রতীকী ছবি)

ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণ ডেস্ক:

আশরাফুল মাখলুকাত বলতে সৃষ্টির সেরা বুঝায়। পৃথিবীতে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি মানুষ। আল্লাহতায়ালা মানুষের সৃষ্টির অসাধারণ পদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। পৃথিবীর উৎকৃষ্ট নেয়ামতের মধ্যে সন্তান সর্বশ্রেষ্ঠ নেয়ামত। আল্লাহ যাকে চান তাকেই সন্তান দান করেন। অনেক মানুষ কোটি টাকা খরচ করেও সন্তানের মুখ দেখতে পারেন না। আর অনেকে সন্তান জন্মদানে অনীহা দেখায়। এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা কী?

জন্মনিয়ন্ত্রণ ও স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা সম্পর্কে জানিয়েছেন আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

সম্প্রতি এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেন— আমার বাচ্চার বয়স ১৪ মাস, আমার স্ত্রীর সিজার করা হয়েছিল। আমি আগামী ৪-৫ বছর বাচ্চা নিতে চাচ্ছি না। আমার প্রশ্ন— জন্মনিয়ন্ত্রণ ইমপ্লান্ট, কপাটি। এসব পদ্ধতি ইসলামে জায়েজ হবে কিনা। অথবা ইসলামে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি আছে কি?

জবাবে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, যদি সিজারে বাচ্চা হয়, আর ডাক্তার বলে এবার বাচ্চা নিলে মা ঝুঁকিতে পড়তে পারে, তাহলে আপনি অবশ্যই জন্মনিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। কিন্তু জন্মনিয়ন্ত্রণে স্থায়ী পদ্ধতি কোনোভাবেই গ্রহণ করা উচিত নয়।

তার মতে, স্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ (যেমন— বন্ধ্যাকরণ বা টিউবেকটমি) সম্পূর্ণ হারাম ও নাজায়েজ। তবে কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে সাময়িক বিরতি দেওয়া বৈধ হলেও রিজিকের ভয়ে বা সন্তান লালন-পালনের অক্ষমতার অজুহাতে জন্মনিয়ন্ত্রণ করাকে তিনি ইসলামে সমর্থনযোগ্য মনে করেন না।

জন্মনিয়ন্ত্রণের মূল দিকগুলো হলো—

স্থায়ী পদ্ধতি নিষেধ: স্থায়ীভাবে সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করা (বন্ধ্যত্বকরণ) ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

সাময়িক বিরতি বৈধ: স্ত্রীর অসুস্থতা, শারীরিক দুর্বলতা বা অন্য কোনো যৌক্তিক ও বৈধ কারণে স্বামী-স্ত্রীর সম্মতিতে সাময়িক সময়ের জন্য সন্তান গ্রহণে বিরতি নেওয়া জায়েজ।

রিজিকের ভয় ও জন্মনিয়ন্ত্রণ: ‘কী খাওয়াব’ কিংবা ‘ভবিষ্যতে কীভাবে চালাব’—এজাতীয় পার্থিব ও আর্থিক দুশ্চিন্তা বা আশঙ্কায় সন্তান না নেওয়া বা জন্মনিয়ন্ত্রণ করা অনুচিত।

আহমাদুল্লাহর মতে, আল্লাহতায়ালাই প্রতিটি সৃষ্টির রিজিকের জিম্মাদার।