খাদ্য দ্রব্যের মূল্য বাড়ছে
রাজশাহীতে অভিযানের পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের দাম!
- আপডেট সময় : ০৭:৪৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৩ জুলাই ২০২৫ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিনিধি :
বৃহত্তর রাজশাহী অঞ্চলে মজুতবিরোধী অভিযানের পরও নিয়ন্ত্রণে আসছে না চালের দাম। বোরো মৌসুম শেষ হওয়ার পর বস্তা প্রতি চালের দাম এক লাফে বৃদ্ধি পেয়েছে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা। কেজিতে বেড়েছে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত। মোটা চালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চালকল মালিকরা বলছেন, বোরো উঠার পর থেকেই রাজশাহী অঞ্চলের মোকাম ও হাট-বাজারে ধানের দাম বাড়ছে। ফড়িয়া ব্যাপারিরা ধান কিনে মজুত করছেন। মিল মালিকরা ফড়িয়া ব্যাপারিদের কাছ থেকে ধান কিনে চালকল চালাচ্ছেন। তবে সাম্প্রতিক অভিযানের পর বস্তায় ১০০ টাকা করে কমেছে চালের দাম। অভিযানের ভয়ে আড়ত বন্ধ করে আত্মগোপন করেছেন মজুতদাররা। তবে তারা অভিযোগ করছেন, সিংহভাগ ধান উচ্চমূল্যে ক্রয় করছেন করপোরেট ব্যবসায়ীরা। ফলে ধান কেনা থেকে বিরত থেকেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
রবিবার (১৩ জুলাই) রাজশাহীর কয়েকটি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মানভেদে বিভিন্ন চালের দাম কেজিতে ৪ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ইদের আগে যে মিনিকেট চাল ৭২ টাকায় বিক্রি হয়েছে সাহেব বাজারে সেই চাল বিক্রি হয়েছে ৮৪ টাকা কেজি। ৭৭ টাকা কেজির নাজিরশাইল চাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বিআর আটাশ নামের যে চাল দুই সপ্তাহ আগে ৫৩ থেকে ৫৪ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে, সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি।
এ বিষয়ে রাজশাহী চালকল মালিক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয়ক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় গেল ২৬ জুন। রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় অব্যাহতভাবে ধান-চালের মূল্যবৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জেলা প্রশাসকদের জেলায়-জেলায় মজুতবিরোধী অভিযান জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর থেকে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নওগাঁ ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন অটোরাইস মিলস ও মোকামে মজুতবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে স্থানীয় প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ। এরপরও ধান চালের দামের ওপর কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং মিল মালিকরা দুই সপ্তাহ আগে চালের দাম বস্তায় ৩০০ টাকা বাড়িয়ে অভিযানের পর বস্তায় ১০০ টাকা করে কমিয়েছেন। বাজারে চাল কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে সরকার ১৪ লাখ টন চাল ও সাড়ে তিন লাখ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সরকারিভাবে ধান ও চাল সংগ্রহ অভিযান চলবে। যেসব মিল মালিক চুক্তি করেও ধার্যকৃত চাল সরকারি খাদ্য গুদামে সরবরাহ করেনি সে সব মিলে অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ। ইতোমধ্যে রাজশাহীর নাবিল গ্রুপ, কামাল অটোরাইস মিলস, হাসেম অটো মিলস ও এফএম অটোরাইস মিলে অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া চাল সরবরাহের বড় মোকাম নওগাঁর ৬টি অটোরাইস মিলেও অভিযান হয়েছে। অভিযান হচ্ছে পাবনা ও বগুড়ার মিলসগুলোতে। তবে অভিযানের পরও আড়ত ও খুচরা বাজারে চালের দাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মজুতবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ায় ধান-চালের আড়তগুলোতে চালের সরবরাহ কমে গেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে চালের দামের ওপর। অভিযানের কারণে রাজশাহী বিভাগের প্রধান প্রধান চাল সরবরাহকারী মোকাম ও আড়তগুলো বন্ধ রেখে গা ঢাকা দিয়েছেন পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা।
চাল সরবরাহকারী বৃহৎ প্রতিষ্ঠান নবাব অটোরাইস মিলসের স্বত্বাধিকারী আকবর হোসেন বলেন, কোরবানি ইদের পর চালের দাম বাড়লেও অভিযানের পর বস্তায় ১০০ টাকা করে কমেছে। তবে দাম কমলেও রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের মিলগুলোতে কেনাবেচা কমেছে।
তবে প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের কিছু নামিদামি কোম্পানি একচেটিয়া চালসহ খাদ্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। মিল মালিকদের কাছ থেকে চাল কিনে এসব কোম্পানি প্যাকেটজাত করে ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করছে। অভিযান করেও প্রশাসন এসব কোম্পানির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না।
রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য দপ্তরের সহকারী উপ-পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, এর দুটি কারণ প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একটি হলো চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। ফলে কৃষকরা সরকারি সংগ্রহ কেন্দ্রে ধান দিচ্ছেন। অন্যদিকে মিল মালিকরা খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহ করছেন। এতে বাজারে ধান-চালের দামের ওপর কিছুটা প্রভাব পড়েছে। দ্বিতীয় কারণ হলো, লাগাতার বৃষ্টির কারণে হাসকিং মিল মালিকরা চাতালে ধান শুকিয়ে চাল তৈরি করতে পারছেন না। মিল মালিকরা মোকামগুলো থেকে কিছুটা বেশি দামে ধান কিনে চাল তৈরি করছেন। এরও প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।















