আহত ৩ জন হাসপাতালে,
অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাব কর্মকর্তা নিহত!
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম ব্যুরো:
সোমবার (১৯ জানুয়ারী) সন্ধ্যার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হয়েছে র্যাবের একটি দল। এ সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাবের এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরও তিন সদস্য।
নিহত র্যাব কর্মকর্তার নাম মো. মোতালেব হোসেন। তিনি র্যাব-৭-এ ডিএডি পদে কর্মরত ছিলেন। আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম পাওয়া যায়নি।
রাত সাড়ে ৮টায় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এসপি মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান র্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার বিষয়টি ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘র্যাবের একটি দল অস্ত্র উদ্ধারে ওই এলাকায় গিয়েছিল। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। সন্ত্রাসীদের গুলিতে চারজন র্যাব সদস্য গুরুতর আহত হয়েছে। খবর পেয়ে র্যাবের অতিরিক্ত ফোর্স এবং আমি নিজে ও থানা পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করেছি। হাসপাতালে নেয়ার পর ডিএডি মোতালেব হোসেনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাকি তিনজন সিএমএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’
সীতাকুণ্ড থানার আওতাধীন জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত। এখানে সরকারি জমি দখল-বেদখল, পাহাড় কাটা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ন্ত্রণে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। তাছাড়া এই এলাকাটির ভৌগোলিক অবস্থান এমন যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি প্রবেশ করলেই পাহারাদারদের মাধ্যমে সন্ত্রাসীরা আগাম খবর পেয়ে যায়।
এরপর পাহাড়ের ওপর থেকে গুলি, ককটেল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এককভাবে অভিযান চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর আগেও একাধিকবার জঙ্গল সলিমপুরে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ ও পাহাড় কাটা বন্ধে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছিল প্রশাসনের লোকজন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, থানার ওসি ও পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ২০২২ সালেও একাধিকবার র্যাব, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সরকারি সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা আরও বেড়ে যায়।
সর্বশেষ গত বছরের ৪ অক্টোবর জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন। আহত হন বেশ কয়েকজন। এর পরদিন সেখানে সংবাদ সংগ্রহে গেলে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিকও।















