রাজশাহী নগরীতে,
প্রেসক্লাব ও মানবাধিকার সংগঠনের আড়ালে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট!
- আপডেট সময় : ০৮:৫৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ৪৬১ বার পড়া হয়েছে

মোঃ রবিউল ইসলাম:
রাজশাহী বিভাগজুড়ে সাংবাদিকতা ও মানবাধিকার রক্ষার আড়ালে এক ভয়াবহ চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত নিউজ সূত্রে জানার পর নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগীর সাথে কথা বললে তারা বলেন ‘আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ (আসুফ) এর কেন্দ্রীয় পরিচালক ও নিজেকে ‘রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাবে’র সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা দাবিদার এম,এ আরিফ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাধারণ সরল সহজ মানুষ ও কয়েকজন সাংবাদিককে প্রলোভন দেখিয়ে কার্ড বানিজ্য এবং পরবর্তীতে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য ও গোপনীয়তা ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে’। এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী, বিভাগীয় কমিশনার,রাজশাহী এবং পুলিশ কমিশনার বরাবর গণ স্বাক্ষরযুক্ত অভিযোগ করেন কিছু ভুক্তভোগী গত বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ ঘটিকায়।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়,আরিফ ও তার সহযোগীরা স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে কথিত রাজশাহী বিভাগীয় প্রেসক্লাব ও মানবাধিকার রক্ষার সাইনবোর্ড ব্যবহার করে বিভিন্ন বিরোধপূর্ণ জমিতে হস্তক্ষেপ করা এবং ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করাই তাদের প্রধান কৌশলে পরিণত হয়েছে। যা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর খতিয়ে দেখা উচিত বলে জানান ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্যান্য ভুক্তভোগী(সাংবাদিক ব্যতীত ) জানান, নিজেকে প্রভাবশালী সাংবাদিক ও মানবাধিকার নেতা পরিচয় দিয়ে আরিফ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করেন। এবং টাকা দিতে অস্বীকার করলে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ বা আইনি জটিলতায় ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।মানবাধিকার সংগঠনের নামে প্রতারণা আইনজ্ঞদের মতে, কোনো এনজিও বা ফাউন্ডেশন আইনগতভাবে বিচারিক ক্ষমতা রাখে না।
কিন্তু ‘আইন সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ (আসুফ) এর নাম ব্যবহার করে এই চক্রটি অনেকটা ‘প্যারালাল প্রশাসন’ চালানোর চেষ্টা করছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
স্থানীয় মূলধারার সাংবাদিকদের মতে, এ ধরনের ভুঁইফোড় সংগঠনের কারণে প্রকৃত সংবাদকর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বীকৃত প্রেসক্লাবের বাইরে এ ধরনের স্বঘোষিত সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সরেজমিনে এমনও দেখা গেছে জীবনে কখনোই স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়নি সেও জাতীয় পত্রিকার আইডি কার্ড ব্যবহার করছে ।টাকা দিলেই জাতীয়/অনলাইন/প্রিন্ট মিডিয়া কোন প্রকার যাচায় বাঁচায় ছাড়ায় কার্ড ভিজিটিং কার্ড ডাকযোগে পাঠিয়ে দেয়।
সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত এই ‘চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট’কে আইনের আওতায় না আনলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে। অপরদিকে যারা প্রকৃত সাংবাদিক তাদের সুনাম ক্ষুণ্নসহ বিভিন্ন ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশ কমিশনার রাজশাহীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ছুটির দিন এবং পবিত্র রমজান মাস হওয়ায় সম্ভব হয়নি কারণে তাদের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
















