ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

রাজশাহীতে

ফটো সাংবাদিক কাচুকে ফাঁসানোর অভিযোগ: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ।

বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২২ বার পড়া হয়েছে

 

​বিশেষ প্রতিনিধি:

রাজশাহীতে একটি ফেসবুক ভিডিও শেয়ারকে কেন্দ্র করে জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিক মামুনুর রশীদ কাচুকে মামলায় জড়ানো ও গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের একাংশ। প্রকাশিত খবরের সত্যতা আড়াল করে মূল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ এনেছেন তারা।

​রিভারসিটি প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে, মাদক কারবারিদের বাঁচাতে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফটোসাংবাদিক কাচুকে এই মামলায় বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।

​ঘটনার পটভূমি ও মামলা
​মামলার নথি ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ৭)। মাহবুবা খাতুন লিলা নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

​উল্লেখ্য, মূল এজাহারে ফটোসাংবাদিক মামুনুর রশীদ কাচুর কোনো নাম ছিল না।
​এর আগে, বাদী মাহবুবা খাতুন লিলা সাংবাদিকদের কাছে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের ওপর অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রের বিবরণ দিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেন। সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি হুবহু (কোনো এডিট বা সংযোগ-বিয়োগ ছাড়াই) মামুনুর রশীদ কাচু তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজ ‘এখনই সময়’-এ শেয়ার করেন।
​ভিডিও শেয়ার থেকেই জটলা
​ভিডিওটি শেয়ার দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ ও কাচুবিরোধী অপপ্রচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। কাচুকে এই মামলায় জড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে সেই চক্রটি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কাচু পূর্বেও বিভিন্ন সময় একটি কায় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ভয়ভীতি ও চক্রান্তের শিকার হয়ে আসছিলেন।
​আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ফটোসাংবাদিক কাচু নিজে থেকেই পুলিশের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানান এবং উপস্থিত হন। পরবর্তীতে পুলিশ ওই মামলায় ভিডিও শেয়ার করার সূত্র ধরে তাকে আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
​ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও প্রতিবাদ
​এদিকে, ভিডিওতে যে নারী একসময় সাংবাদিকদের কাছে কান্না জড়িত কণ্ঠে আকুতি জানিয়েছিলেন এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, পরবর্তীতে তিনি নিজের দেওয়া বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। সাহায্য চাওয়ার ভিডিওটি কেবল শেয়ার করার কারণেই কাচুকে আসামির তালিকায় তুলে আনা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজশাহীর সচেতন সাংবাদিক সমাজ।

​সংবাদকর্মীরা জানান, “একজন ভুক্তভোগীর দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকার শেয়ার করার অপরাধে একজন সাংবাদিককে সাজানো মামলায় ফাঁসানো স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত। ভিডিওটি দেখলেই এবং এতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।”

​সংবাদিক মহল থেকে অবিলম্বে মামুনুর রশীদ কাচুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য অভিযোগ প্রত্যাহার ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাজশাহীতে

ফটো সাংবাদিক কাচুকে ফাঁসানোর অভিযোগ: তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ।

আপডেট সময় : ০৪:৫৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

 

​বিশেষ প্রতিনিধি:

রাজশাহীতে একটি ফেসবুক ভিডিও শেয়ারকে কেন্দ্র করে জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিক মামুনুর রশীদ কাচুকে মামলায় জড়ানো ও গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক সমাজের একাংশ। প্রকাশিত খবরের সত্যতা আড়াল করে মূল ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অভিযোগ এনেছেন তারা।

​রিভারসিটি প্রেসক্লাব ও রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সাংবাদিকদের একাধিক সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করেছে, মাদক কারবারিদের বাঁচাতে এবং প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফটোসাংবাদিক কাচুকে এই মামলায় বলির পাঁঠা বানানো হয়েছে।

​ঘটনার পটভূমি ও মামলা
​মামলার নথি ও অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনের ২৫ ধারাসহ দণ্ডবিধির ৩৮৫, ৩৮৬, ৫০০ ও ৫০৬ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নম্বর: ৭)। মাহবুবা খাতুন লিলা নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

​উল্লেখ্য, মূল এজাহারে ফটোসাংবাদিক মামুনুর রশীদ কাচুর কোনো নাম ছিল না।
​এর আগে, বাদী মাহবুবা খাতুন লিলা সাংবাদিকদের কাছে একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে নিজের ওপর অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রের বিবরণ দিয়ে সাহায্য প্রার্থনা করেন। সেই সাক্ষাৎকারের ভিডিওটি হুবহু (কোনো এডিট বা সংযোগ-বিয়োগ ছাড়াই) মামুনুর রশীদ কাচু তাঁর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেজ ‘এখনই সময়’-এ শেয়ার করেন।
​ভিডিও শেয়ার থেকেই জটলা
​ভিডিওটি শেয়ার দেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় সাংবাদিকদের একটি অংশ ও কাচুবিরোধী অপপ্রচারকারী চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। কাচুকে এই মামলায় জড়াতে মরিয়া হয়ে ওঠে সেই চক্রটি। অনুসন্ধানে জানা যায়, কাচু পূর্বেও বিভিন্ন সময় একটি কায় স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ভয়ভীতি ও চক্রান্তের শিকার হয়ে আসছিলেন।
​আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ফটোসাংবাদিক কাচু নিজে থেকেই পুলিশের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানান এবং উপস্থিত হন। পরবর্তীতে পুলিশ ওই মামলায় ভিডিও শেয়ার করার সূত্র ধরে তাকে আটক দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করে।
​ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও প্রতিবাদ
​এদিকে, ভিডিওতে যে নারী একসময় সাংবাদিকদের কাছে কান্না জড়িত কণ্ঠে আকুতি জানিয়েছিলেন এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন, পরবর্তীতে তিনি নিজের দেওয়া বক্তব্যকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেন। সাহায্য চাওয়ার ভিডিওটি কেবল শেয়ার করার কারণেই কাচুকে আসামির তালিকায় তুলে আনা হয়েছে বলে মনে করছেন রাজশাহীর সচেতন সাংবাদিক সমাজ।

​সংবাদকর্মীরা জানান, “একজন ভুক্তভোগীর দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকার শেয়ার করার অপরাধে একজন সাংবাদিককে সাজানো মামলায় ফাঁসানো স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত। ভিডিওটি দেখলেই এবং এতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।”

​সংবাদিক মহল থেকে অবিলম্বে মামুনুর রশীদ কাচুর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অসত্য অভিযোগ প্রত্যাহার ও তাঁর নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।