ঢাকা ০৩:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

কাস্টমস গোয়েন্দার তৎপরতায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়।

বিশেষ প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমদানিকারক ওএসএল ফার্মা লিমিটেডের ৩০ হাজার ৩৬০ কেজি ঘোষিত নিট ওজনের একটি পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষার আওতায় নেয় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

কম শুল্ক-কর হারের (টিটিআই) এইএস কোড ব্যবহার করে ‘প্রিপেয়ার্ড এডহেসিব’ পণ্যকে ‘ইপোক্সিড রেজিন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বেনাপোল সার্কেলের গোয়েন্দা তৎপরতায় চালানটির সঠিক শ্রেণিবিন্যাসের পর অতিরিক্ত ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।

চালানটি ‘ইপোক্সিড রেজিন’-এ এইচএস কোডে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই এইচএস কোডের টিটিআই ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ঘোষিত এইচএস কোড অনুযায়ী চালানটির শুল্ক-কর নির্ধারিত ছিল এক কোটি এক লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা।

তবে কায়িক পরীক্ষায় চালানটিতে দুই ধরনের রাসায়নিক পণ্য পাওয়া যায়। পণ্যগুলোর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে নমুনা দুটি যথাক্রমে ইপোক্সিড রেজিন ও পলিমেইড রেজিন হিসেবে শনাক্ত হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট অনুপাতে পণ্য দুটি একত্রে মিশ্রিত করলে এডহেসিভ বা আঠা তৈরি হয়।

ফলে ঘোষিত এইচএস কোড অনুযায়ী নির্ধারিত এক কোটি এক লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকার পরিবর্তে সঠিক এইচএস কোড ও টিটিআই প্রয়োগের পর আরও এক কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা রাজস্ব ঘাটতি উদঘাটিত হয়।

পরবর্তীতে কাস্টমস হাউস, বেনাপোলের বিচারাদেশ অনুযায়ী রাজস্ব ফাঁকি বা অতিরিক্ত শুল্ক-কর হিসেবে এক কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা, অর্থদণ্ড হিসেবে এক কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বিমোচন জরিমানা হিসেবে ২ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

এনবিআর জানায়, সব মিলিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তৎপরতায় সরকারের মোট ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা এ ঘটনায় প্রতিহত করা হয়েছে। পণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করতে কায়িক পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং কাস্টমস ট্যারিফের যথাযথ প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কাস্টমস গোয়েন্দার তৎপরতায় ২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়।

আপডেট সময় : ১১:৫৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশেষ প্রতিনিধিঃ

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমদানিকারক ওএসএল ফার্মা লিমিটেডের ৩০ হাজার ৩৬০ কেজি ঘোষিত নিট ওজনের একটি পণ্যচালান কায়িক পরীক্ষার আওতায় নেয় কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

কম শুল্ক-কর হারের (টিটিআই) এইএস কোড ব্যবহার করে ‘প্রিপেয়ার্ড এডহেসিব’ পণ্যকে ‘ইপোক্সিড রেজিন’ হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা উদঘাটন করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। বেনাপোল সার্কেলের গোয়েন্দা তৎপরতায় চালানটির সঠিক শ্রেণিবিন্যাসের পর অতিরিক্ত ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়।

চালানটি ‘ইপোক্সিড রেজিন’-এ এইচএস কোডে ঘোষণা করা হয়েছিল। এই এইচএস কোডের টিটিআই ৩৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। ঘোষিত এইচএস কোড অনুযায়ী চালানটির শুল্ক-কর নির্ধারিত ছিল এক কোটি এক লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকা।

তবে কায়িক পরীক্ষায় চালানটিতে দুই ধরনের রাসায়নিক পণ্য পাওয়া যায়। পণ্যগুলোর প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে নমুনা খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে নমুনা দুটি যথাক্রমে ইপোক্সিড রেজিন ও পলিমেইড রেজিন হিসেবে শনাক্ত হয়। একই সঙ্গে পরীক্ষায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট অনুপাতে পণ্য দুটি একত্রে মিশ্রিত করলে এডহেসিভ বা আঠা তৈরি হয়।

ফলে ঘোষিত এইচএস কোড অনুযায়ী নির্ধারিত এক কোটি এক লাখ ৬৩ হাজার ৭০ টাকার পরিবর্তে সঠিক এইচএস কোড ও টিটিআই প্রয়োগের পর আরও এক কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা রাজস্ব ঘাটতি উদঘাটিত হয়।

পরবর্তীতে কাস্টমস হাউস, বেনাপোলের বিচারাদেশ অনুযায়ী রাজস্ব ফাঁকি বা অতিরিক্ত শুল্ক-কর হিসেবে এক কোটি ১৭ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা, অর্থদণ্ড হিসেবে এক কোটি ২০ লাখ টাকা এবং বিমোচন জরিমানা হিসেবে ২ লাখ টাকা আদায় করা হয়।

এনবিআর জানায়, সব মিলিয়ে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের তৎপরতায় সরকারের মোট ২ কোটি ৩৯ লাখ ২৩ হাজার ১০৩ টাকা ৬ পয়সা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, বড় অঙ্কের রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা এ ঘটনায় প্রতিহত করা হয়েছে। পণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস নিশ্চিত করতে কায়িক পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক ল্যাবরেটরি পরীক্ষা এবং কাস্টমস ট্যারিফের যথাযথ প্রয়োগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।