ঢাকা ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়, অবশেষে বদলির আদেশ। রাজশাহীর মোহনপুরের মিষ্টি পান এখন উপজেলা প্রশাসনের সাইনবোর্ডে! উৎসবমুখর পরিবেশে ‘দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত। নেতৃত্বের অনন্য উচ্চতায় ৯ নং পারিলা ইউপি চেয়ারম্যান জনাব সাঈদ আলী মোর্শেদ। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২৬ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। ধূরইল ইয়াংস্টার ক্লাব বনাম সাদনান একাদশ ফুটবল ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ​। গাজীপুরে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশ বক্সে অগ্নিসংযোগ! পোশাক শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের পর ২৬ কারখানায় ছুটি ঘোষণা! ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ফের বড় ধরণের ড্রোন হামলা:ধ্বংসের দাবি সৌদির! এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাশের হার ৫২.১২ শতাংশ

রাজশাহীর বাগমারায় ইউপি

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ, অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন।

রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৫১ বার পড়া হয়েছে

 

​রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১০ নং মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাগমারা থানার মূল ফটকের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন সরকারি দায়িত্ব পালনকারী গ্রাম পুলিশ সদস্যের গায়ে হাত তোলা বা তাকে হেনস্তা করার কোনো আইনগত অধিকার চেয়ারম্যানের নেই। তাঁরা অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগ:

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ সদস্য মেছের আলী ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণকে জানান, তিনি মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ২৭ বছর ধরে সততার সঙ্গে চাকরি করে আসছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তাকে মুঠোফোনে কল করেন। কিন্তু মোবাইল ফোন ও নেটওয়ার্কজনিত সমস্যার কারণে তিনি সেই সময় কলটি ধরতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান ফোন বন্ধ রাখার কারণ জানতে চান। এ সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেও চেয়ারম্যান তার কোনো কথা শোনেননি এবং উল্টো তাকে সবার সামনে থাপ্পড় মেরে লাঞ্ছিত করেন।

​মেছের আলী আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার পাওয়া যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

​চেয়ারম্যানের বক্তব্য:

গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত কিছু চাল হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ মেছের আলীর কাছে জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে কেবল বাকবিতণ্ডা হয়, তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

​প্রশাসনের বক্তব্য:

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “গ্রাম পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

​বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না জানান, “এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাগমারা উপজেলা গ্রাম পুলিশের সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, গ্রাম পুলিশ সদস্য আসলাম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, মোতালেব, আব্দুস সালাম, জালাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ, ফরিদ উদ্দিন ও আলা বক্স প্রমুখ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

ট্যাগস :

রাজশাহীর বাগমারায় ইউপি

চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গ্রাম পুলিশকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ, অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন।

আপডেট সময় : ১২:৩১:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

 

​রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ১০ নং মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধর ও হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত চেয়ারম্যানের অব্যাহতির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাগমারা থানার মূল ফটকের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

​মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন সরকারি দায়িত্ব পালনকারী গ্রাম পুলিশ সদস্যের গায়ে হাত তোলা বা তাকে হেনস্তা করার কোনো আইনগত অধিকার চেয়ারম্যানের নেই। তাঁরা অবিলম্বে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলামের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি দেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।

​ভুক্তভোগীর অভিযোগ:

মানববন্ধনে ভুক্তভোগী গ্রাম পুলিশ সদস্য মেছের আলী ক্রাইম নিউজ প্রতিক্ষণকে জানান, তিনি মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে প্রায় ২৭ বছর ধরে সততার সঙ্গে চাকরি করে আসছেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম তাকে মুঠোফোনে কল করেন। কিন্তু মোবাইল ফোন ও নেটওয়ার্কজনিত সমস্যার কারণে তিনি সেই সময় কলটি ধরতে পারেননি। পরবর্তীতে তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গেলে চেয়ারম্যান ফোন বন্ধ রাখার কারণ জানতে চান। এ সময় নেটওয়ার্ক সমস্যার বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেও চেয়ারম্যান তার কোনো কথা শোনেননি এবং উল্টো তাকে সবার সামনে থাপ্পড় মেরে লাঞ্ছিত করেন।

​মেছের আলী আরও জানান, ঘটনার পর স্থানীয় ইউপি সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দিলেও দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো বিচার পাওয়া যায়নি। পরে বাধ্য হয়ে তিনি ন্যায়বিচার চেয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

​চেয়ারম্যানের বক্তব্য:

গ্রাম পুলিশ সদস্যকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত কিছু চাল হারিয়ে যায়। এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ মেছের আলীর কাছে জানতে চাইলে উভয়ের মধ্যে কেবল বাকবিতণ্ডা হয়, তবে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”

​প্রশাসনের বক্তব্য:

এ বিষয়ে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “গ্রাম পুলিশ সদস্যকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

​বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিজু তামান্না জানান, “এ ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

​মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাগমারা উপজেলা গ্রাম পুলিশের সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন, গ্রাম পুলিশ সদস্য আসলাম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান, মোতালেব, আব্দুস সালাম, জালাল উদ্দিন, মোস্তাক আহমেদ, ফরিদ উদ্দিন ও আলা বক্স প্রমুখ।